গরমে ক্লাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে সলিমুল্লাহর শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রচণ্ড গরমে ক্লাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস করার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১১ মে) মেডিকেলের দুই নম্বর গ্যালারির ক্লাস বর্জন করে পাশে থাকা করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস সম্পন্ন করেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই নম্বর গ্যালারির এসি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় কিছু দিন পর পর নষ্ট হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসের মাঝামাঝি দুই নম্বর গ্যালারির এসি নষ্ট হয়ে যায়। এক ক্লাসে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী ক্লাস করে। ওই গ্যালারিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এসি নষ্ট থাকায় প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় বারবার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনায়। অসহনীয় গরমের কারণে ক্লাসে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা কয়েকবার মেডিকেলের শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ স্যারকে এসি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছি, তারপরও এসি ঠিক করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। গরম বেশি থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবারই ক্লাসের মধ্যে বহুবার মনোযোগ নষ্ট হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তীব্র গরম থাকায় শিক্ষকরা ক্লাসে ভালো করে পড়াতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরাও হাঁপিয়ে উঠেন। ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ইর্মাজেন্সিতে চিকিৎসা নেওয়া লাগে। এ পরিস্থিতিতে আমরা হতাশায় পড়ে গেছি, ক্লাস করতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। সামনে প্রফেশনাল পরীক্ষা। এখন ক্লাসে মনোযোগী হওয়া খুব জরুরি।’
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের ৪৯তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সারাদেশে এখন তীব্র দাবদাহ চলছে। গ্যালারিতে একসাথে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হয়। এসি নষ্ট থাকায় ক্লাস করা অনেক বেশি কষ্টকর। শিক্ষকরাও ক্লাসে ঘেমে অস্থির হয়ে যান। ক্লাসে প্রবেশ করলেই মনে হয় জান্নাহামের মধ্যে এসেছি। গরমে ক্লাসের মধ্যে থাকাই যায় না। ক্লাসের মধ্যে মেয়েদের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যায়। ক্লাস করাতে শিক্ষকরা ক্লান্ত হয়ে যান।
মেডিকেলের প্রত্যেকটা ক্লাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একটা ক্লাসে মনোযোগ নষ্ট হলে পড়াশোনায় ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়। এতে অনেকে মানসিক দুশ্চিতায় পড়ে যান। পেশাগত পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করারও একটা আশঙ্কা তৈরি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ক্লাসের এসিগুলো দীর্ঘদিনের পুরাতন, নষ্ট হলে যেমন-তেমন করে ঠিক করা হয়। আবার নষ্ট হয়ে যায়। এখন নতুন এসি লাগানো দরকার, তা করা হচ্ছে না। মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের জন্যই মেডিকেল কলেজ, তাহলে শিক্ষার্থীদেরকে কেন এতো অবহেলা করা হবে? শিক্ষার্থীদের যত্ম নেওয়ার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এসি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বারবার কর্তৃপক্ষের দরজায় ঘুরেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তারা বিভিন্ন টালবাহানায় ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। গত ক্লাসগুলোতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অত্যাধিক তাপমাত্রার কারণে অজ্ঞান হয়ে গেছেন। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা গ্যালারির সামনের করিডোরেই ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতি প্রতিবাদ করেছে।’
‘আজ শিক্ষার্থীরা নতুন এসি স্থাপনের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে আশ্বাস পর্যন্তও দেওয়া হয়নি’, বলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্ল্যাহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আকাইদুজ্জামান মেডিভয়েসকে বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি ইলেকট্রিক বিভাগকে জানানো হয়েছে, তারা কাজ করবে। তিন-চার দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সহমত পোষণ করে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা লেনিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এই কাজটা আমার না, আমার কাজ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা তদারকি করা। এসি ঠিক করা পিডব্লিউডির (গণপূর্ত) কাজ। তাদেরকে অনেক আগে চিঠি দিয়েছি, বলেছি এবং অনেকবার অভিযোগও দিয়েছি। তারা বলছে, অতি দ্রুত কাজটা করে দিবে। আমার পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার ছেলে-মেয়ের মতো। এখন গরমও অনেক বেশি, তাদের দাবি অমূলক নয়। তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট না হোক, আমি এটা চাই।’
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৫ নভেম্বর, ২০২৪
-
২২ নভেম্বর, ২০২৪
-
০৮ অক্টোবর, ২০২৪
-
০৬ অক্টোবর, ২০২৪
-
০৮ জুলাই, ২০২৪
-
২৪ জুন, ২০২৪
-
০৬ জুন, ২০২৪
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
পটিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান হলেন ডা. এমদাদুল হাসান