হাম উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮৯০
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে হাম পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৫১ জনের মধ্যে। নতুন পাঁচ মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯০। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ২৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৩।
অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬ জনে। এসব রোগীর মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৯৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৮৬৩ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ১৭ হাজার ৬৯০ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিত হাম আক্রান্তের পাশাপাশি উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ফলে শিশুদের মধ্যে হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন, সেসব এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এরপর দিন দিন হামের উপসর্গে মৃ্ত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এনএইচ/