ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে খুলনায়, তিন জোনে ভাগ করে মশক নিধনে কেসিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরজুড়ে মশক নিধনে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নিশ্চিত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। সেখানে বর্তমানে ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন ও পুরোনো রোগী মিলিয়ে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১১৬ জন।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।
তিন জোনে ভাগ করে মশক নিধন
ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নগরীকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে কেসিসি। জোন ‘এ’তে রয়েছে ১, ২, ৩, ৫, ১০, ১২, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। জোন ‘বি’র আওতায় রাখা হয়েছে ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। আর ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠন করা হয়েছে জোন ‘সি’।
এসব এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ ছিটানো ও ফগিং করা হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি মাইকিং করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের মাধ্যমেও জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় নগরীতে মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। সকাল ও বিকেলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হবে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ঝোপঝাড় ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে।
বিশেষ করে পুরোনো টায়ার, কৌটা, ডিমের খোসা, ডাবের খোল, ফুলের টব, বেসিনের নিচে, ফ্রিজ ও এসির পাশে কিংবা সানসেটে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ফল পাওয়া কঠিন। নগরবাসীর কল্যাণে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এনএইচ/