২৯ মে, ২০২৪ ১১:৩১ এএম

আজীবনের জন্য ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হলেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

আজীবনের জন্য ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হলেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর হাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগকৃত সম্মাননা সনদ তুলে দেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আজীবনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান চিকিৎসক, দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ হিসেবে নিয়োগকৃত সম্মাননা সনদ তুলে দেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুভূতি জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এসব সম্মাননা আরও বেশি কাজ করার উৎসাহ যোগায়। এটি আমার জন্য গৌরবের। এই অর্জনে আমার বাবা-মাকে স্মরণ করছি এবং আমার শিক্ষাজীবনেরে সকল শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সেইসঙ্গে আমার শিক্ষার্থীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেখালেখি ও গবেষণা চালিয়ে যাবো। মেডিসিন বিভাগে এখনও যাই এবং আসা-যাওয়া করি। চেষ্টা করবো শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করতে। সবকিছু ঠিক-ঠাক মতো চালিয়ে যেতে চাই। এজন্য সবার দোয়া চাই। অশেষ কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর প্রতি। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।’

এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারিতে তিন বছরের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’  হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। এবার তিনি আজীবনের জন্য ‘অধ্যাপক ইমেরিটাস’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

ইমেরিটাস অধ্যাপক একটি সম্মানসূচক পদবি বা উপাধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপকের জীবদ্দশায় শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মানজনক পদ বা পদবি প্রদান করা হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম এ সম্মানে ভূষিত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মকাণ্ড ও গবেষণায় সম্পৃক্ত থেকে আজীবন একজন অধ্যাপকের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অধ্যাপক আবদুল্লাহর আরও অর্জন

দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাসহ সামগ্রিক পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর অসামান্য অবদান রয়েছে।

এর স্বীকৃতি স্বরূপ দেশি-বিদেশি ১৬টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেজ্ঞ।

কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা ও অধিকতর উন্নয়নে অবদান রাখায় ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ স্বর্ণপদক পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। 

কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩০ এপ্রিল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

গত ২৫ নভেম্বর বাংলা একাডেমি ২০২৩ সালের ‘মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার’ পান ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৬তম বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। 

চিকিৎসা সেবায় অবদানের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদকে ভূষিত হন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

এর আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে আজীবন সম্মাননা দেয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'দেশ টিভি’। রাজধানীর একটি হোটেলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

একই বছরের এপ্রিল মাসে মেডিসিনের বাইবেলখ্যাত পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস’ প্রিন্সিপ্যাল অ্যান্ড প্রাকটিস অব মেডিসিন’র ২৪তম আন্তর্জাতিক সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। 

গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৭ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

এর পরের বছর আগস্ট মাসে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘ইউজিসি প্রফেসরশিপ’ সম্মানে ভূষিত হন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।

গত বছরের বছরের ৩১ জানুয়ারি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। 

করোনা প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অনলাইনে চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে তাঁকে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একই বছর ‘এটিএন বাংলা-উন্নয়নে বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পান ডা. আব্দুল্লাহ। এ ছাড়াও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

বেড়ে ওঠার গল্প

তিনি ১৯৫৪ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। এর পর ১৯৬৯ সালে ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

এর পর কিছুদিন গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন মেডিকেল অফিসার হিসেবে হিসেবে। এরপর চলে যান সৌদি আরব। সেখানে পাঁচ বছর চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে চলে যান লন্ডনে।

যুক্তরাজ্যে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করে দেশে এসে রাজধানীর হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে দুই বছর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালে পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) যোগদান করেন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অনুষদের ডিন ও মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ থেকে অবসরে যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।

এসএএইচ/এএনএম

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক