০২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৩ পিএম

গাইবান্ধায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসককে সতর্কীকরণ চিঠি

গাইবান্ধায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসককে সতর্কীকরণ চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গাইবান্ধায় আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে এক মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে অভিযোগকারী রোগীকে টাকা দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন তিনি।

আজ রোববার (২ আগস্ট) সকাল দশটা ১৫ মিনিটের দিকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় তিনি দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হিসেবে কর্মরত।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র জানায়, সকাল দশটা ১৫ মিনিটের দিকে আকস্মিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও ছুটিতে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে শামসুন্নাহার নামে কুকুরের কামড়ে আহত এক রোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী (সেকমো) তাকে বাইরে থেকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন কিনতে বলেন। পরে তিনি এক হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তা গ্রহণ করেন।

এ অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইটএফপিও) ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে ফোন করে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিকেলে ফেরার পথে বরখাস্তের আদেশপত্র দেখবেন বলেও জানান।

এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করবেন বলে জানান মন্ত্রী।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. মো. মাসুদুর রহমান আকন্দ মেডিভয়েসকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কিছুই জানত না। তিনি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে আসেন এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, শুরুতে একজন চিকিৎসককে বরখাস্তের কথা বলা হলেও পরিদর্শন শেষে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। পরিবর্তে মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য হওয়া রোগীর টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ডা. আকন্দ জানান, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে, সেটি ঘটেছিল গত বৃহস্পতিবার। তবে ওই দিন ডা. জিল্লুর রহমান দায়িত্বে ছিলেন না। পরিদর্শনের দিন তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অবগত নন বলে জানান। এ কারণেই তাকে সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, স্টোর ও রান্নাঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারও পরিদর্শন করেন।

হাসপাতালের সংকট প্রসঙ্গে ইউএইচএফপিও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা স্যালাইনের ঘাটতি। এছাড়া গাইনি কনসালটেন্টের পদ শূন্য এবং আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি পুরোনো হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে কনসালটেন্টের অনুমোদিত পদ ১১টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেক রোগীকে উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।

এমআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত