১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৮:০১ পিএম

পাঠ্যপুস্তকে কিডনি রোগের সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: স্বাস্থ্য সচিব

পাঠ্যপুস্তকে কিডনি রোগের সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: স্বাস্থ্য সচিব
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্কুল পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে কিডনি রোগ বিষয়ে সচেতনতামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন এই সভার আয়োজন করে। রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও বিএসএমএমইউর নেফ্রোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, কিডনি রোগে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। স্কুল পর্যায়ের পাঠ্য বইতে কিডনি রোগ নিয়ে সচেতনামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধে শুধু রোগী নয়, চিকিৎসক এমনকি শিক্ষকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকরা যেন আনরেজিস্ট্রার্ড প্রডাক্ট প্রেসক্রিশনে না লিখেন, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

ভিসি বলেন, ব্যথানাশক ওষুধ লেখার বিষয়েও অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সাথে কিডনি রোগে চিকিৎসায় এভিডেন্স বেইসড মেডিসিনকে গুরুত্ব দিতে হবে, গাইডলাইন ফলো করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, কিডনি রোগ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গবেষণাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসাসেবায় স্টেম সেল থেরাপি কিভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ও ডিসিপ্লিনারি টু ডিসিপ্লিনারি ইন্টারেকশন কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে কিডনি রোগ প্রতিরোধে রুটিন পরীক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে রেজিস্ট্রার্ডকৃত চিকিৎসক এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ তার বক্তব্যে কিডনি রোগ প্রতিরোধ, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, সিএপিডি চিকিৎসার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রয়েছে, যা রোগীদের কোনোভাবেই সেবন করা উচিত না। কারণ অনেক মানুষের জীবন এ ধরণের ওষুধ সেবন করে কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে। তাই এই বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যে সকল ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়, তার উপর সরকার আরোপিত সকল প্রকার ভ্যাট ও ট্যাক্স সম্পূর্ণরূপে মওকুফ করতে হবে।

সেমিনারে আয়োজকরা বলেন, বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের মানুষের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ মহিলা এবং ২০ শতাংশ পুরুষ। সে হিসাবে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে তারা আরও বলেন, গত এক দশকে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই মহামারিতে বছরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল্প হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে সক্ষমত রয়েছে, সে অনুযায়ী মাত্র ২০ শতাংশ রোগীকে ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডায়ালাইসিস ও অন্যন্য চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তার মানে ৮০ শতাংশ রোগী বিনা চিকিৎসায় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। 
বাংলাদেশেসহ বিশ্বব্যাপী কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পৃথিবীতে বর্তমানে ৮৫ কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। মাত্র ২ যুগ আগেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ ছিল ২৭তম স্থানে, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অষ্টম স্থানে এবং ২০৪০ সালে তা আরো বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে পঞ্চম স্থানে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপকা ডা. মো. আবু জাফর, কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ। এতে বিএসএমএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এএইচ হামিদ আহমেদ, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক বছরে ছয় সহস্রাধিক শিশুকে কিডনি রোগের সেবা দিয়েছে বিএসএমএমইউ

এর আগে সকালে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কিডনি (পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি) বিভাগ। পরে বিভাগ ও পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘আরলি ডিটেকশন অ্যান্ড প্রিভেনশন অব রেনাল ডিজিজেস ইন চিলড্রেন’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে বিভাগের চেয়ারম্যান ও পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম জানান, বিএসএমএমইউর শিশু কিডনি বিভাগের উদ্যোগে গত এক বছরের ৬ সহস্রাধিক শিশু কিডনি রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার চারশত ৯৩ জন, ভর্তি হয়ে চিকিৎসেবা নিয়েছে ৬৮৫ জন শিশু এবং ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়েছে ৩৮ জন শিশুকে।

এই সেমিনারে অধ্যাপক ডা. গোলাম মাঈন উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. কবির আলম, অধ্যাপক ডা. শামীম পারভেজ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালমা জাহান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সাইমুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা জেসমিন, সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোছা. শানজিদা শারমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবসটি পালিত হয়। কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি খুবই জরুরি। এবারে বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘আপনার কিডনি কি সুস্থ? দ্রুত পরীক্ষা করুন, কিডনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা করুন।’

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিশ্ব কিডনি দিবস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত