০২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৮:৫৬ পিএম

দেশে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ল্যাব বাড়লে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ল্যাব বাড়লে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত বা অ্যাক্রেডিটেড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী রোগীদের অনেক সমস্যা কমবে। একই সঙ্গে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

আজ রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক নীতি নির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে বিদেশে যান। দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের রিপোর্টের ওপর বিদেশি চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত আস্থা না থাকায় সেখানে পৌঁছে অনেক রোগীকেই একই পরীক্ষা আবার করাতে হয়। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হয়।

তার মতে, দেশে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা দেশের মাটিতেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাড়তি পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম।

তিনি বলেন, ল্যাবরেটরিগুলোকে মানোন্নয়নের জন্য শুরুতেই কঠোর আইন প্রয়োগ বা চাপ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট মালিক ও পরিচালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি রোগীদের আস্থা বাড়বে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব ব্যবসায়ও পড়বে। এ বিষয়টি মালিকেরা উপলব্ধি করলে তারা নিজেরাই অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে আগ্রহী হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মান যাচাইয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি চলছে। স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, রোগ নির্ণয়ের সঠিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুতর রোগের প্রকোপ কমানো কঠিন হবে।

সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ও স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক