০২ জুন, ২০২৫ ০৩:১০ পিএম
গণঅভ্যুত্থানে হামলা-ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টা

চাকরি হারাচ্ছেন বিএমইউর চিকিৎসকসহ ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

চাকরি হারাচ্ছেন বিএমইউর চিকিৎসকসহ ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় চিকিৎসকসহ ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। নৃশংস হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর এবং কেবিন ব্লকের সামনে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রমাণসাপেক্ষে শনিবার (৩১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকায় ১৫ জনকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও রয়েছেন এই তালিকায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, ক্যাম্পাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বহিষ্কারের মুখোমুখি হচ্ছেন ১৫ জন চিকিৎসক ও শিক্ষক।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. কুদরত-এ-খুদা তালুকদারের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি তদন্তে চূড়ান্তভাবে ৩৪ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেছে। কমিটির সদস্যরা ওই সময়ের ভিডিও ফুটেজ, নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের জবানবন্দি এবং অভিযুক্তদের লিখিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে ‘প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে’ যেভাবে নির্যাতন করা হয়, তার ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্য সুস্পষ্ট। ওই ঘটনায় ‘ক’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ১৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৫ (ঘ), ৫ (ঝ) এবং ৫ (ট) ধারায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, তাদের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এছাড়া ‘খ’ ক্যাটাগরিতে থাকা ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগে অংশ নেওয়ার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিরা হামলার সময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের ক্ষেত্রেও অধ্যাদেশের ৬ (ঠ) ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে পদচ্যুত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত ১৫ জন হলেন—প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তোরাব মীম, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ রিয়াদ সিদ্দিকী, পরিচালক (হাসপাতাল) অফিসের পেইন্টার নিতীশ রায় ও মো. সাইফুল ইসলাম, এমএলএসএস মেহেদী কাজী, সহকারী ড্রেসার মো. শহিদুল ইসলাম, সুইপার সন্দীপ দাস, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী উজ্জ্বল মোল্ল্যা, পরিবহন শাখার ড্রাইভার সুজন বিশ্ব শর্মা, ওপিডি-১ এর এমএলএসএস ফকরুল ইসলাম জনি, ল্যাবরেটরি সার্ভিস সেন্টারের কাস্টমার কেয়ার অ্যাটেনডেন্ট রুবেল রানা, ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের এমএলএসএস শাহাদাত, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স শবনম নূরানী, ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের এমএলএসএস মো. আনোয়ার হোসেন এবং কার্ডিওলজি বিভাগের এমএলএসএস মো. মুন্না আহমেদ।

‘খ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত ১৯ জন হলেন—ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আহসান হাবিব, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে, অনকোলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জাহান শামস্, সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নূর-ই-এলাহী, অটোল্যারিংগোলজি- নাক কান গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসানুল হক, শিশু নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার সরকার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহনেওয়াজ বারী, কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. অমল কুমার ঘোষ, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. পবিত্র কুমার দেবনাথ।

এছাড়া অ্যানেসথিশিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, জেনারেল সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাঈদুল হাসান, অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের গবেষণা সহকারী/স্ব-বেতনে কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ তারিকুল মতিন, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন।

জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে ‘খ’ ক্যাটাগরি তালিকায় ২৩ জনের নাম আসলেও তাদের মধ্য থেকে চারজনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। তারা হলেন—অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জিল্লুর রহমান ভূইয়া, নিউরোসার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক ও উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. বেলাল হোসেন সরকার এবং প্রন্থোডনটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবিদ।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত শিক্ষক ও চিকিৎসকসহ নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে বিএমইউ প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করা হয়। বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত