নিউরোসায়েন্সেসে চিকিৎসকের ওপর হামলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত: বিএসএনএস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (নিন্স) ও হাসপাতালে এক রেসিডেন্ট চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনস (বিএসএনএস)। সংগঠনটি এ ঘটনাকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আঘাত উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। শনিবার (১ আগষ্ট) সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোউদুদুল হক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. শুভ বণিক রোগীর স্বজনদের হামলার শিকার হন। রোগী ও স্বজনদের শোকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ভুক্তোভোগী ডা. শুভ বণিক জানান, ৩০ জুলাই বিকেলে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডের ৯২৯ নম্বর কেবিনে ভর্তি এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি রোগীকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। রোগীর জ্বর ১০২ ডিগ্রি এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ শতাংশ পাওয়ায় অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন, চেস্ট ফিজিওথেরাপিসহ জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের চিকিৎসক ও অনকল কনসালটেন্টকে অবহিত করা হয় এবং রোগীকে পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, রোগীর স্বজনদের কাউন্সেলিং করার কিছুক্ষণ পর একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন পরিচয় দিয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে রোগীর কেবিনে গেলে ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে কলার চেপে ধরা, ধাক্কা দেওয়া, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসা সহকারী অধ্যাপক ডা. নুর মোহাম্মদকেও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শুভ বণিক আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার দায় তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোথাও বক্তব্য না দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
তার দাবি, পরে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল রহমান ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দিলেও হামলার বিচার কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেননি।
এছাড়া হাসপাতালের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি আক্রান্ত রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের পাশে না দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক অবস্থান রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে এক আইসিইউ কনসালটেন্টের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের মাধ্যমে রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের হেয় করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ডা. শুভ বণিক।
এমআর/