শরীয়তপুরে অনিয়মের অভিযোগে দুই ক্লিনিক বন্ধ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ভেদরগঞ্জ মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক এবং ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক।
আজ রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন।
চার সদস্যের ওই কমিটি গত ২০ জুন মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক পরিদর্শন করে অনুসন্ধান চালায়। তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৩ জন রোগীর এক্সট্রাপালমোনারি টিবিতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার প্রকৃত উৎস তখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উৎস শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এর ভিত্তিতে রোগের উৎস অনুসন্ধান ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এক্সট্রাপালমোনারি টিবির উৎস অনুসন্ধানে পাঁচ কর্মকর্তাকে নিয়ে পৃথক একটি টিমও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিল। পরবর্তী বছরের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হলেও সেটি তখনও পরিদর্শন পর্যায়ে ছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ক্লিনিক অংশ আগেই বন্ধ ছিল। তবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রমের অনুমোদন হালনাগাদ না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে গত ১ আগস্ট ডায়াগনস্টিক অংশটি সিলগালা করে বন্ধ করা হয়।
অন্যদিকে ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি পাওয়া গেছে। চিঠি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের জন্য নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন করলেও অনুমোদন পায়নি। তাদের ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তি রয়েছে। তবে পরিবেশ ও নারকোটিকস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকলেও সেগুলোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রমের বৈধ লাইসেন্স না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে গত ১ আগস্ট ডায়াগনস্টিক অংশটি সিলগালা করে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে ওই সময় ক্লিনিকে রোগী ভর্তি থাকায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর আগামী ৮ আগস্ট ক্লিনিকটিও বন্ধ করে সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ আগস্ট দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠান দুটির চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় মান ও সক্ষমতা নিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান তিনি। পরে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এনএইচ/