মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তের আশ্রয়স্থল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের সূচনা থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি গত ১৬ বছর ধরে হাসপাতাল ব্যস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের এক বছরের মাথায় ২০০৮ সালে সহকারী পরিচালক ও অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। বর্তমানে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটসমূহের মহাপরিচালক হিসেবে যুক্ত অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন।
দীর্ঘ দিন ধরে এ মেডিকেলের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা—এই দুই ধারাতেই সরব পদচারণার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটির খুঁটিনাটি সব কিছু রয়েছে তাঁর নখদর্পণে। রোগীদের চাওয়া, কর্মীদের প্রত্যাশা—এ সবই অনায়াসে উপলব্ধি করতে পারেন; যার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সুবিধা-অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করেন পরম মমতায়। কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং নিজের আন্তরিক সময় দান ও অভাবনীয় দক্ষতায় হাসপাতালে বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নত ও সর্বাধুনিক স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়।
এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি হয়ে উঠেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের পরম আশ্রয়স্থল। আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক জানালেন, এখানে অল্প টাকায় নিশ্চিত করা হয়েছে সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা। পাশাপাশি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে কিছু দরিদ্র রোগীকে প্রতিদিনই দেওয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা।
এ ছাড়া বসন্ধুরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে মাত্র সাড়ে ছয় লাখ টাকায় এমবিবিএস কোর্সে পড়াশোনার সুযোগের কথা জানিয়ে অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, এত কম টাকায় পড়াশোনার সুযোগ আজকের পৃথিবীতে নজিরবিহীন। একই সঙ্গে আদ্-দ্বীনে রয়েছে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা-পয়সায় পড়াশোনার সুযোগ।
আদ্-দ্বীন মেডিকেলে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সেবার বিষয়ে জানতে সম্প্রতি মেডিভয়েস মুখোমুখি হয় সফল নারী চিকিৎসক প্রশাসকের। মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. মনির উদ্দিন।
১০-১২ হাজার টাকায় সিজার
অযৌক্তিক সিজার এড়ানোর বিষয়ে আদ্-দ্বীনের হাসপাতালের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। তবে সিজারের পর ব্যাপক খরচের অভিযোগও আছে কারও কারও। এর সত্যতা ও খরচ বাড়ার নেপথ্য কথা তুলে ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহ ও নার্সিংয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের বিষয়ে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সব সময় সচেষ্ট ও আন্তরিক। এ ব্যাপারে আদ্-দ্বীন সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে আমাদের সকল হাসপাতালে ব্যাপক চেষ্টা চলে। এমনকি প্রথমবার সিজারের ইতিহাস থাকলেও আমরা প্রসূতিকে স্বাভাবিক ডেলিভারির বিষয়ে উৎসাহিত করি। আদ্-দ্বীনে প্রায় প্রতিদিনই এ রকম ডেলিভারি হচ্ছে। প্রথমবার নানা কারণে সিজার ছাড়া সম্ভব হয় না। কিন্তু পরেরবার দেখা যায়, এ রকম জটিলতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আদ্-দ্বীনে স্বাভাবিক ডেলিভারি করা হয়। এতে মা ও শিশুর কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। তবে এ ক্ষেত্রে রোগীকে ঘনিষ্ট পর্যাবেক্ষণ জরুরি। এতে দুর্ঘটনার কোনো আশঙ্কা থাকে না। আমাদের এখানে ওয়ান টু ওয়ান, অর্থাৎ একজন মায়ের জন্য একজন মিডওয়াইফ নিবেদিত থাকেন। তবে স্বাভাবিক ডেলিভারির সময় কোনো জটিলতা দেখা দিলে, সিজারের জন্য এক মুহূর্তও দেরি করা হবে না।
তিনি বলেন, আদ্-দ্বীনে শুধুমাত্র মগবাজারে দিনে ৬০-৭০টি ডেলিভারি হয়, এর মধ্যে স্বাভাবিক ডেরিভারি ২০-৩০টি। সে হিসাবে সিজারও কম বলা যাবে না। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ আছে। আদ্-দ্বীন একটি রেফারাল হাসপাতাল। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেফার করা রোগীরা এখানে আসেন। কোনো জটিল রোগী নানা কারণে অন্য হাসপাতালে যেতে পারে না। এর মধ্যে খরচের আধিক্য অন্যতম। এ কারণে অন্য জায়গা থেকে রোগী চলে আসেন এই হাসপাতালে। অন্য জায়গায় সিজারে যেখানে লাখ টাকার উপরে খরচ হয়, সেখানে আমাদের হাসপাতালে ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, প্রথম সিজার হলে ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ওটি, ওষুধ ও ডাক্তার কনসালটেন্সি যুক্ত আছে। কিন্তু উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা অন্যান্য জটিল কোনো সমস্যা থাকলে, কোনো রোগী হয় তো অতিরিক্ত কিছু খরচ হয়। এখানে ওয়ার্ডে রোগীদের বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। কিন্তু অনেক রোগী কেবিন বেছে নেন। এজন্য খরচ গুণতে হয়। এখানে আসার সময় হয় তো এই চিন্তা করে আসেননি। কিন্তু হাসপাতালের পরিপাটি অবস্থা দেখে তারা কেবিনের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সেখানে আত্মীয়-স্বজনও যেতে পারেন। কিন্তু মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া অসুস্থ নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে বড় একটি খরচ হয়ে যায়। প্রসূতি জটিল রোগী হলে তার বেলায়ও মোটা অংকের খরচ হয়ে যায়। কিন্তু বাচ্চার কোনো সমস্যা না থাকা ও মায়ের কোনো জটিলতা না থাকলে ১০-১২ হাজারের ওপরে খরচ হয় না। সুতরাং বাড়তি খরচের কোনো অভিযোগ আসলে বুঝতে হবে, তার অন্য কোনো সংকট ছিল।
অধিক সংখ্যক স্বাভাবিক ডেলিভারির বিষয়ে রোগীরাও অবগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে এতো অধিক সংখ্যক রোগী এখানে আসেন। আদ্-দ্বীনের মগবাজার শাখায় গর্ভবতী সেবা কেন্দ্রে এন্টিনেটাল কেয়ার নিতে আসেন ৩-৪ শতাধিক গর্ভবতী মা। এতো অধিক সংখ্যক মায়ের আসার কারণ, তারা জানেন, আদ্-দ্বীন স্বাভাবিক ডেলিভারির বিষয়ে আন্তরিক ও সচেষ্ট। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত টেলিকমিউনিকেশন আছে। তাদের কাছে এসএমএস পাঠানো হয়। চেকআপ ডেটের আগে, ডেলিভারির আগে যোগাযোগ হয়। কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে তাদেরকে হাসপাতালে ডেলিভারির বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। বাসায় সন্তান প্রসবে নিরুৎসাহিত করা হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় এনআইসিইউ আদ্-দ্বীনে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক জানান, এই হাসপাতালে সব রোগের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। নারী-শিশু-পুরুষ নির্বিশেষে সব রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এটা একটি টার্শেয়ারি কেয়ার সেন্টার। আমাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবাটা খুবই শক্তিশালী। সিসিইউ সার্ভিস আছে। দেশের সবচেয়ে বড় শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) রয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে। চল্লিশ শয্যার ইউনিটটি শিগগির ১৪০ শয্যায় উন্নীত হবে। কম খরচ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা থাকায় অনেক রোগী এখানে চলে আসেন। আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিসে ইনফেকশন প্রিভেনশনের জন্য যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হয় আন্তর্জাতিক মানের। চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেশিনারিজগুলোও অত্যাধুনিক। ফিজিওথেরাপি সেন্টারে সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের কোথাও নাই। কম খরচে সেবা পাওয়ায় স্ট্রোকের অনেক রোগী এখানে চলে আসেন। এজন্য আমরা বলি, কম খরচে মানসম্মত সেবা দিচ্ছি আমরা।
২৫০ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিসের আওতায় শত শত রোগী
হাসপাতালে গরিব ও অসহায় রোগীদের সেবায় নামমাত্র মূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর বিষয়ে অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগী এ সেবা গ্রহণ করেছেন। এখনো সিরিয়ালে অনেক রোগী আছেন। রোগী বেশি হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি থেকে অনেক দরিদ্র রোগী এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক রোগী আছেন, যাদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিষয়টি জানার উপায় নাই। কারণ তারা সংকটের কথা মুখ খুলে বলতে পারেন না। কোভিডকালীন সময়ে হয় তো চাকরি চলে গেছে, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেতন ঠিক মতো পাননি, কিন্তু তার ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। অর্থ সংকটে করতে পারেন না। এ রকম অনেক রোগী আছেন। ডায়ালাইসিস তো দীর্ঘ মেয়াদি বিষয়। একবার শুরু হলে সারাজীবন তাকে দিতে হয়। এ রকম অনেক রোগী সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা ১/২ বার নেওয়ার পর টাকার অভাবে নিতে পারেননি। গণমাধ্যমে আমাদের সেবার কথা শুনে এসেছেন, তালিকাবদ্ধ হয়েছেন, সেবা নিচ্ছেন। গরিব রোগীদের এ সেবা অব্যাহত আছে। এর পাশাপাশি সামর্থবানদের যে ডায়ালাইসিস সেবা চলমান আছে, তাও অন্য হাসপাতালের চেয়ে অনেক কম। অন্য সেন্টারে যা তিন হাজারের ওপরে, তা আমরা নিচ্ছি আড়াই হাজার টাকা। পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য কেন্দ্রে আড়াই হাজার টাকা, আমরা নিচ্ছি মাত্র দেড় হাজার টাকা।
কর্মরত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন কাঠামো
অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, অন্যান্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজে যে কাঠামো অনুসরণে বেতন দেওয়া হয়, আদ্-দ্বীনেও সেভাবেই দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আদ্-দ্বীনকে স্কয়ার, ইউনাইটেড, ল্যাব-এইড, অ্যাপোলো ও এভারকেয়ারের মতো করপোরেট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে মেলানো যাবে না। মেডিকেল কলেজ হিসেবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই এখানকার বেতন কাঠামো। জুনিয়র চিকিৎসকরাও ভালো বেতন পান এখানে। তবে আইসিইউ, সিসিইউ, এনসিইউ ও অ্যানেসথেশিয়ায় জুনিয়র চিকিৎসকদের অনেক বেশি। এসব বিভাগে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের কারও কারও বেতন চল্লিশের ওপরে। অন্যান্য বিভাগে ত্রিশের মতো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। বিসিপিএসের অধীনে আমাদের এখানে ছয়টি বিভাগে প্রশিক্ষণ চলে। এসব বিভাগে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষণার্থীদেরও বেতন দেওয়া হয়। যারা চাকরি করতে আসেন, তারা জেনে-বুঝেই আসেন। তবে সামগ্রিকভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের বেতন-ভাতা আরও বাড়ানো দরকার। এটা করতে পারলে আরও ভালো হয়। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বেতন কাঠামো নিয়ে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা হওয়া দরকার। নবীন চিকিৎসকদের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্রত্যেকতলায় কাউন্টার, আছে একাধিক ফার্মেসি
অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, এখানে টাকা জমা দেওয়ার জায়গাকে আমরা বলছি, বিজনেস কাউন্টার। মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একটি বিসনেস কাউন্টার ছিল। ফলে সেবাগ্রহীতাদের অনেক সময় অপেক্ষমাণ থাকতে হতো। ফলে ছুটি হয়ে গেলেও কর্মীরা যেতে পারতো না। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর, দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই কাউন্টারটা প্রতি ফ্লোরে ফ্লোরে করে দেওয়া হয়েছে। যাতে রোগীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে না হয়। রোগী ছাড় পেলেই বিজনেজ কাউন্টারে টাকা দিয়ে চলে যেতে পারবেন। তবে টেস্টের জন্য এক জায়গায় যেতে হয়, প্যাথলজি বিভাগে। ওখানে যেতেই হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা যা যা করবে, তার জন্য ওখানে টাকা জমা দিয়ে নিচে যাবে। সেটা একটা জায়গাতেই আছে। মোট পাঁচটি বিজনেস কাউন্টার হয়ে যাওয়াতে রোগীদের এই সমস্যাটা আর নেই। তাদের সমস্যার কথা চিন্তা করে অভিযোগের বিষয়ে আমরা মনোযোগ দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের এখানে পূর্ণাঙ্গ দুটি মডেল ফার্মেসি রয়েছে। সেখানে অনেকগুলো কাউন্টার রয়েছে। মহিলা ও পুরুষদের আলাদা কাউন্টার। এ ছাড়া তিনতলা ও চারতলায় শাখা ফার্মেসি রয়েছে। শিশু বিভাগের কারও ওষুধ দরকার পড়লে তিনতলা থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর কাউন্টারে লাগোয়া জায়গা থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করছেন। অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে না। বাস্তবতা হলো: অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকার কারণে রোগী ও স্বজনদের অন্য কোথাও অল্প কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার ধৈর্য থাকে না। কিন্তু এখানে প্রতিদিন ১৬-১৭শ’ রোগী আসেন সেবা নিতে। শয্যাগুলোও খালি থাকে না। এসব বিবেচনায় পর্যাপ্ত কাউন্টারই আছে। তারপরও খানিক দেরি হয়ে যেতে পারে। সেগুলোতে হয় তো অনেক সময় অভিভাবকরা অভিযোগ করে বসেন, তবে আমরা অনেক কিছুর বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করেছি। রোগীদের ভোগান্তি কমানোর চিন্তা থেকেই আমরা এটা করেছি। রোগীদের সেবা আরও সহজতর করা হয়েছে।
বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেলে সাড়ে ৬ লাখ টাকায় পড়ার সুযোগ
আদ্-দ্বীন মেডিকেলের শিক্ষার মান নিয়ে অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন জানান, সারাদেশে আদ্-দ্বীনের আটটি হাসপাতাল আছে, এর মধ্যে ঢাকায় তিনটি এবং মগবাজারে আদ্-দ্বীন ইউমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জুরাইনে আদ্-দ্বীনে ব্যারিস্টার রফিকুল হক হাসপাতাল এবং কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ঢাকার বাইরে যশোরে সকিনা আদ্-দ্বীন ইউমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আই হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল, খুলনায় আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়ায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। মগবাজারে রয়েছে আদ্-দ্বীন নার্সিং ইনস্টিটিউট, যেখানে ডিপ্লোমা ও বিএসসি কোর্সই পড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল কলেজের পড়াশোনার মান চমৎকার। যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা ইউমেন্স মেডিকেল কলেজ ও খুলনা আকিজ মেডিকেল কলেজ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে সব সময় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আকিজ মেডিকেল কলেজ প্রথম ও সকিনা ইউমেন্স মেডিকেল কলেজ দ্বিতীয় হয়। সরকারি মেডিকেলের চেয়েও সেখানে পড়াশোনার মান ভালো। এই দুই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে। তাদেরকে ব্যাপক পরিচর্যা করতে হয়। সেখানে দীর্ঘ সময়ে শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যগুলো দুইটা-আড়াইটার মধ্যে শেষ হলেও আমাদের এখানে চার-পাঁচটা পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা আছে। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সবাইকে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করতে হয়। ওদের কিছু জানার থাকলেও খুব সহজেই শিক্ষকদেরকে পেয়ে যায়। হোস্টেলে চলে গেলে তো এই সুবিধা পাবে না। এর সুবাদে তাদের পড়াশোনা কলেজে হয়ে যায়। তারা ছাত্রাবাসে গিয়ে নিজেদের মতো পড়াশোনা করে। দুটি কলেজের অকাঠামো চমৎকার ও জনসম্পদ পর্যাপ্ত। বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও মগবাজারে আদ্-দ্বীন ইউমেন্স মেডিকেল কলেজের ফলাফলও খুব ভালো। বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের বিশেষত্ব হলো, সেখানে খুব কম টাকায় পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে মাত্র সাড়ে ছয় লাখ টাকায় ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে। এত কম টাকায় বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের কোথাও এ রকম দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে না। সরকারিতে সুযোগ জুটেনি অথচ ফলাফল খুবই ভালো, কিন্তু টাকার অভাবে বেসরকারিতে পড়া হয়ে ওঠে না—এমন দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষকরা খুবই দক্ষ ও আন্তরিক, ক্যাম্পাসও চমৎকার। তাদের ফলাফল খুবই ভালো। মগবাজারে একই অবস্থা। সরকারি বিধি অনুসারে ৪৫ ভাগ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হোন, তাদের ফলাফল খুবই ভালো। মগবাজার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ তাদের খুব পছন্দের। বিশেষ করে কাশ্মীরের মেয়েরা প্রচুর আসে এখানে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও আসে। তাদের পছন্দের অনেকগুলো আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রথমত পড়াশোনার মান ভালো, দ্বিতীয়ত সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন, একেক বর্ষের শিক্ষার্থীর জন্য একেক ধরনের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা আছে, যার ফলে সহজে তাদের শিক্ষাবর্ষ চিহ্নিত করা যায়। শুধু এই কারণে তাদের অভিভাবকরা এই প্রতিষ্ঠান খুবই পছন্দ করে। এ ছাড়া মুসলিম মেয়েদের জন্য ধর্মীয় পরিবেশও একটি কারণ। তাদেরকে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে হয়। ফলে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ থাকে।’
ক্লিনিক্যাল শিক্ষার অবারিত সুযোগ
তিনি বলেন, শুধু বই পড়ে মেডিকেল শিক্ষা মান নিশ্চিত হয় না। প্রাকটিক্যাল শিক্ষা খুবই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা রোগী দেখতে না পারলে, ডায়াগনোসিস করার সুযোগ না পেলে, যথাযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা না জানলে চিকিৎসক হয়ে বের হয়ে রোগীদের আরও ক্ষতি করে বসবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের রোগী দেখাও জরুরি। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, ক্লিনিক্যাল শেখার ব্যাপার আছে, এই সুযোগ আদ্-দ্বীনে অবারিত। কারণ আমাদের প্রচুর রোগী। বইয়ের পাশাপাশি রোগী দেখার সুযোগ সব হাসপাতালে সন্তোষজনক না। এখানে চিকিৎসাধীন রোগীরা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় অনায়াসে তাদের দেখার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য জায়গায় তারা রোগীদের কাছেও যেতে পারে না। এই কারণে দেশ ও দেশের বাইরের অভিভাবকরা পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেন। ভর্তির জন্য অনেক প্রেসার আসে, তবে আমরা কোটা অনুযায়ী তাদের ভর্তি নিই।
অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষায় সর্বাধিক জরুরি হলো, হাসপাতালে অধিক রোগী, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী। একটি ভালো মেডিকেলের জন্য এই বিষয়গুলো অপরিহার্য। হাসপাতালে রোগী থাকলে সেবা সম্ভব হয়, পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা রোগীদের মাধ্যমে শিখতে পারছে। এই সুযোগটা অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাই, যা আদ্-দ্বীনে আছে। এই সুবিধা সব বেসরকারি মেডিকেলে রাখার পাশাপাশি যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রাখা গেলে মেডিকেল শিক্ষার মান ঊর্ধ্বমুখীই হবে, কখনো নিচে আসবে না। ফলশ্রুতিতে জাতি মানসম্মত চিকিৎসকই পাবে।
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য
অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, ভালো ও দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা, যাতে রোগীদের সেবা দিতে পারে। হাসপাতাল থেকে রোগীদেরকে অল্প খরচে সব সময় সর্বোচ্চ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। রোগী যেন বলতে না পারে যে, অমুক হাসপাতালে গলাকাটা দাম নিয়েছে। আমাদের এখানে এসে তারা এই কথাটা বলতে পারেন না। আমাদের প্রতিটি ফ্লোরে সেবার মূল্য তালিকা দেওয়া আছে। অর্থাৎ কোন অপারেশনে কত খরচ, কোন পরীক্ষায় কত খরচ। এখানে খরচের বিষয়গুলো লুকানো হয়নি।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে এখানে একটি বিশেষ তহবিল থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু গরিব-অসহায় রোগীকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। আরেকটি হলো, দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানদের বিনা-পয়সায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া। এ ছাড়া বসন্ধুরা আদ্-দ্বীন মেডিকেলে কম টাকায় পড়াশোনার সুযোগ একেবারে অতুলনীয়।
ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের শিক্ষাজীবন ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহেই আমি বড় হয়েছি। আমার শিক্ষা জীবন ময়মনসিংহে। এক্সপেরিমেন্টাল স্কুল, বিদ্যাম স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এর পর ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট স্কুলে পড়াশোনা করেছি। সেখান থেকে এইচএসএস সম্পন্ন করার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। শিক্ষাজীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে ময়মনসিংহে। ১৯৯৬ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করি।’
‘এর পর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় চলে আসা। সেই সঙ্গে শুরু হয় কর্মজীবন। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের গাইনোকোলজি এন্ড অবস্টেটিক্স বিষয়ের কিংবদন্তী অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরী স্যারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। রাজধানীর শান্তিনগরে তাঁর ফরিদা ক্লিনিকে কর্মজীবনের শুরু। এর পর ধানমণ্ডিতে ডেল্টা হাসপাতাল ডা. মোকাররম আলী স্যারের সঙ্গে কাজ করি, বর্তমানে যেটা মিরপুরে ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হিসেবে চলছে’, যোগ করেন অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, ‘এরপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড স্যোশাল মেডিসিন (নিপসম) থেকে ২০০৬ সালে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) করি। এর পর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। পরবর্তীতে কিছু দিন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে কাজ করি। তারপর ২০০৭ সালে আদ্-দ্বীনে চলে আসি। এখানে প্রশাসনে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়। এর পরের বছর আদ্-দ্বীন মেডিকেল প্রতিষ্ঠিত হলে হাসপাতাল অংশের সহকারী পরিচালক ও মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাই। ২০১২ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করি। এর পর পর্যায়ক্রমে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং পরে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। এর পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক এবং ২০১৯ সালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহ ও নার্সিংয়ের মহাপরিচালক হন। একই সঙ্গে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজে কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। কমিটিউনিটি মেডিসিনের প্রধান হিসেবে আছেন।’
মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারা জীবনের বিরাট অর্জন
আদ্-দ্বীনে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হচ্ছে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, একজন চিকিৎসকের চিন্তা ও মননে সব সময় থাকে রোগী সেবার কথা, তা এখান মন-প্রাণ ঢেলে করার সুযোগ পাচ্ছি। এর পেছনে আছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতার জন্য রোগীদের কাঙিক্ষত মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এখানে অনেক দরিদ্র রোগী আসেন, তাদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্র্যের কথা মুখ খুলে বলতে পারেন না। অনেক জায়গায় গিয়ে তারা হয় তো সেবা নিতে পারছেন না, অপারেশনের টাকা হয় তো জোগাড় করতে পারেন না। তাদের অপারেশন দায়-দায়িত্ব আমরা বহন করি। এখানে গরিব ও অসহায় মহিলাদের জন্য একটি তহবিল আছে, সেখান থেকে এসব রোগীদের সহযোগিতা করা হয়। আমি মনে করি, আমার জন্য এটা বিশাল সুযোগ। চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা করে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছি, এটা আমার জন্য একটি বিরাট অর্জন। এই সেবা দিতে পেরে আমি অত্যন্ত সুখী। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই নাই। মানবসেবার মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহকে খুশি করার এই যে সুযোগ, এটা আমি এখানে পেয়েছি। চিকিৎসা পেশায় যারা যুক্ত আল্লাহ তা’লা তাদেরকে এই সুযোগ দিয়েছেন। অন্য কোনো পেশায় তা সম্ভব না। রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় তাদের অভিব্যক্তি, তাদের যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তা আমার জন্য অবর্ণনীয় ভালো লাগার। পাশাপাশি আমি যেটুকু জানি, সেটুকু মেয়েদেরকে জানাতে পারি, এটা আমার একটি প্রাপ্তি। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশা আমি দারুণভাবে উপভোগ করি।
এই অবস্থানের পেছনে ভূমিকা যাদের
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি পরিবার থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে আমার স্বামী খুবই সহযোগী। তিনি আমাকে খুব সহযোগিতা করেন। আমার বাচ্চারা যখন ছোট, তখন থেকেই তিনি সহযোগিতা করে আসছেন। এর পরে আমার দুই ছেলে, আমার মা-বাবা। তাদের সবার সহযোগিতেই আমি এত দূর আসতে পেরেছি। আমার ক্যারিয়ার, কিংবা চিকিৎসা পেশাটাই এ রকম যে, চাইলে সংসারে পুরোপুরি সময় দেওয়া যায় না। মানবসেবার চিন্তা করেই আমি এ পথে পা বাড়িয়েছি। সুতরাং আমাকে তো আসতেই হবে, বাইরে কাজ করতেই হবে। কখনো কখনো রাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, সংকটাপন্ন কোনো রোগীর সহযোগিতার জন্য আমাকে আসতে হয়। কাজটা উপভোগ করার কারণে আমি ক্লান্তি বোধ করি না, বিরক্ত হই না। রোগীদের সেবার বিষয়ে আপোষ করি না। এটা করতে গেলে সংসার অনেক সময় বঞ্চিত হয়। এক্ষেত্রে আমার স্বামীর অভাবনীয় সহযোগিতা রয়েছে। আমার ক্যারিয়ার ঘিরে আমার শ্বাশুরি, পিতা-মাতার—সবার সহযোগিতা ছিল। এর পর এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ডা. শেখ মুহিউদ্দিন, তাঁর সহযোগিতা না থাকলেও এত দূর আসা সম্ভব হতো না। অধ্যাপক ডা. টিএ চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. মোকাররম আলী স্যারের কাছ থেকেও অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। নিপসমের অধ্যাপক ডা. আখতার স্যারের সহযোগিতা আমার জীবনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই আমার এগিয়ে চলায় সাহস জুগিয়েছে।’