তিন দিনব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বিএসপিএমআর’র লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত অধ্যাপক কামরুল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ‘জুলাই বিপ্লবের প্রেরণায় চাই শক্তিশালী পুনর্বাসন চিকিৎসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশনের (বিএসপিএমআর) দ্বাদশ জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ অনুষ্ঠান শুরু হয়, চলে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও বিএমআরসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েবা আক্তার, বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরে আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশে ফিজিক্যাল মেডিসিনের জনক অভিহিত অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল আলম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এবিএম আবু হানিফ, অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর, সোসাইটির এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. তছলিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. একে আজাদ, কনফারেন্স সেক্রেটারি অধ্যাপক এম এম জামান।
কনফারেন্সে বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৮ সালে এবং ১৯৮৩ সালে আইপিজিএমআরে (বর্তমান বিএসএমএমইউ) একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ রিহ্যাব চিকিৎসক দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠাণে রিহ্যাবিলিটেশন টিম তথা ফিজিওথেরাপিস্ট, রিহ্যাব নার্স, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ও অটিজম থেরাপিস্ট এবং কাউন্সেলরের সমন্বিত দল জনগণের দ্বারপ্রান্তে এই সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।
সম্মেলনে ১০০ অধিক দেশি-বিদেশি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মঈনুজ্জামান খানকে আইকন অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বিগত তিন বছরে পাস করা ৪৮ জন বিশেষজ্ঞকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে নবীন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে থেকে ডা. ফাতেমা নওয়াজকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ইমার্জিং ফিজিয়াট্রিস্ট অব দ্য ইয়ার, ডা. শামীম ফরহাদকে ইয়ং ফিজিয়াট্রিস্ট অব দ্য ইয়ার প্রদান করা হয়।
সম্মেলন থেকে বেশ কিছু সুপারিশ গৃহিত হয়। এর মধ্যে প্রধান প্রধান সুপারিশ হলো—
১. দ্রুততম সময়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ও জেরিয়াট্রিক ইন্সস্টিটিউট বাস্তবায়ন।
২. সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ স্থাপন।
৩. এসকল মেডিকেল কলেজ, সদর হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ে ফিজিক্যাল মেডিসিন ইউনিট ও নতুন পদ সৃজন।
৪. আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল কারিকুলামে বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব আরোপ।
৫. অচিকিৎসক দ্বারা প্রেসক্রিপশন বন্ধে বিএমডিসি ও রাস্ট্রীয় অন্যান্য সকল আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং
৬. ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে প্রতিবন্ধিতা নির্ণয়ে জাতীয় মানদণ্ড র্নিধারণ করা ও আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সিস্টেম গড়ে তোলা।
এমইউ/