০২ অগাস্ট, ২০২৬ ০২:৩৭ পিএম

প্রয়াত অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের স্মরণে নাগরিক শোকসভা 

প্রয়াত অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের স্মরণে নাগরিক শোকসভা 
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: উপমহাদেশের খ্যাতিমান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের স্মরণে চট্টগ্রামে এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগষ্ট) বিকেলে টাইগারপাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে বিএনএসবি ও সিইআইটিসি যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চক্ষু চিকিৎসা সেবায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মহান কর্মবীর। দেশের লাখো মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রবিউল হোসেন নিজের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান করেননি; বরং নিঃস্বার্থ সেবার এক অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে অপশক্তির কবল থেকে সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ডা. রবিউল হোসেনের জীবন ও কর্ম একটি মানবিক সমাজ গঠনের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সিইআইটিসির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলমের সভাপতিত্বে শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন দেশের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চক্ষু চিকিৎসা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মানে ভূষিত হন।

তিনি ১৯৭৫ সালে স্কুলশিক্ষার্থীদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার কর্মসূচি চালু করেন। এ উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে।

১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রবিউল হোসেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত ২৬৬ জন চিকিৎসক স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজির জাতীয় কাউন্সিলর ও আঞ্চলিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবে আট বছর নেতৃত্ব দেন।

চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে তিনি ৩৫০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল’ এবং একটি নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।

এমআর/
 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক