ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদকে ভূষিত অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদকে ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। চিকিৎসা সেবায় অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এ পদক দেওয়া হয়। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সংগীতসহ বিভিন্ন বিভাগে আরও ৮ জনকে বিশিষ্টজনকে এ সম্মাননা দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া গুণীজন সংবর্ধনা পরিষদ।
তারা হলেন—শিক্ষায় নর্থ সাউথ ইউনির্ভাটির উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, সাহিত্যে কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, প্রশাসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, আইন শৃঙ্খলায় পুলিশের এন্টি টেরিজম ইউনিটের ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. মনিরুজ্জামান, সাংবাদিকতায় এখন টিভির সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আব্দুল্লাহ, সঙ্গীতে কণ্ঠশিল্পী শুভ্র দেব, সংস্কৃতিতে (পুরুষ) চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও সংস্কৃতিতে (নারী) অভিনেত্রী তারিন জাহান।
এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১৩টি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।
এসব স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকমণ্ডলীসহ সকলের দোয়া ও আশির্বাদের জন্য এটা সম্ভব হচ্ছে। সর্বোপরি আমার প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ার বরকতে আমি সম্মানে ভূষিত হয়েছি। এটা আমার একার পাওনা না। যারা আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন—সকল শুভাকাঙক্ষীর পাওয়া।’
অধ্যাপক আবদুল্লাহর আরও অর্জন
দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাসহ সামগ্রিক পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর অসামান্য অবদান রয়েছে।
এর স্বীকৃতি স্বরূপ গত বছরের এপ্রিল মাসে মেডিসিনের বাইবেলখ্যাত পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস’ প্রিন্সিপ্যাল অ্যান্ড প্রাকটিস অব মেডিসিন’র ২৪তম আন্তর্জাতিক সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৭ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
এর পরের বছর আগস্ট মাসে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘ইউজিসি প্রফেসরশিপ’ সম্মানে ভূষিত হন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।
গত বছরের বছরের ৩১ জানুয়ারি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।
করোনা প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অনলাইনে চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে তাঁকে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একই বছর ‘এটিএন বাংলা-উন্নয়নে বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পান ডা. আব্দুল্লাহ। এ ছাড়াও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
বেড়ে ওঠা
তিনি ১৯৫৪ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। এর পর ১৯৬৯ সালে ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।
এর পর কিছুদিন গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে হিসেবে যোগদান করেন ডা. আব্দুল্লাহ। এরপর চলে যান সৌদি আরবে। সেখানে পাঁচ বছর চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে চলে যান লন্ডনে।
যুক্তরাজ্যে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করে দেশে এসে রাজধানীর হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে দুই বছর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৫ সালে পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) যোগদান করেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অনুষদের ডিন ও মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ থেকে অবসরে যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।
এমইউ