২৯ মে, ২০২৪ ১০:২০ এএম

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে অ্যাজমা, বেশি ভুক্তভোগী শিশুরা

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে অ্যাজমা, বেশি ভুক্তভোগী শিশুরা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে গ্রামের তুলনায় শহরে অ্যাজমা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা। তাঁরা বলছেন, এখন শহরে অ্যাজমা রোগী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই রোগের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শিশুরা। দেশে ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সাড়ে ৩২ লাখ শিশু অ্যাজমায় ভুগছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে অ্যাজমা রোগ নিয়ন্ত্রণ, সর্বাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘আপডেট অফ অ্যাজমা ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারের তাঁরা এসব তথ্য জানান।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, গত এক দশক ধরে পালমোনারি হাইপারটেশন সোসাইটি এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুনবার্সন ও সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি এ্যাপ্রোচ এর মাধ্যমে জটিল এই কন্ডিশনে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই সোসাইটি পালমোনারি হাইপারটেশনসহ বক্ষব্যধি বিষয়ক রোগের সেবা দিতে অনন্য অবদান রাখছে। চলতি মে মাসেই বিশ্ব অ্যাজমা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ২৬ কোটিরও বেশি লোক অ্যাজমায় ভুগছেন, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ৮ থেকে ১০ শতাংশ। বায়ুদূষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। শিশুরা ও বয়স্করা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অ্যাজমা রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক, রোগী সকলকেই সচেতনতা, অ্যাজমা শিক্ষা এবং এর চিকিৎসার অত্যাধুনিক তথ্যাদি জানা প্রয়োজন।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক অ্যাজমা রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, রোগ নিয়ন্ত্রণসহ যথাযথ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো বেশি করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অ্যাজমা নির্মূল নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এই রোগের প্রকোপ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে পরিবেশদূষণ। 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে দেশের সব চিকিৎসক বিশেষ করে যেসব চিকিৎসকরা দেশের রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাদের এই রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে সম্যক ধারণা ও চিকিৎসা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মানাল মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজাশিস চক্রবর্তী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলামসহ সম্মানিত ডিনবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞগণ, চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক