দশম গ্রেডে উন্নীতসহ ছয় দফা দাবি জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্যের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগ, নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে শুধু চিকিৎসক নয়, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্যান্য পেশাজীবীদেরও যথাযথ মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৩২ ও ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। হৃদরোগ, কিডনি ও ভাসকুলার সার্জারিসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো এবং ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয় কমানোরও দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট দূর করতে বর্তমান শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সব পেশাজীবীর দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ১০ম গ্রেডের পদমর্যাদা প্রদান; নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো, নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম কার্যকর করা এবং শূন্য পদে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত নিবন্ধনের জন্য স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন বা প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের ব্যবস্থা এবং এসব পেশাজীবীর আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
পেশাজীবীদের প্রতি প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। চাহিদাসম্পন্ন স্বাস্থ্য পেশাগুলোতে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য জনবল তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতের নীতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ভবিষ্যতে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসব দাবি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করলে তা মোকাবিলায় সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, তাদের দাবিগুলো শুধু পেশাগত সুবিধা অর্জনের বিষয় নয়। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সঙ্গে এসব দাবির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’র আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বাদশা, সদস্য সচিব এস এম মনিরুল ইসলাম সাদাফসহ বিভিন্ন জাতীয় পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ/