ঢামেক পরিচালকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। এ সময় তারা পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি চলে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা পরিচালকের কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান ওই সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের আরও দাবি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরিচালক তা কার্যকর হতে দেননি। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচালকের অনিয়মের সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি নিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। বিক্ষোভকারী কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, বদলির আদেশ জারির পর তারা ওই কর্মকর্তার কক্ষে তালা দেওয়ার জন্য গেলে একজন কর্মচারী তাদের বাধা দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে বদলি আদেশের পর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগদান করতে এলেও তার যোগদানের কাগজ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে মো. রেজাউল ইসলামও ঢামেকে আগের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আগে থেকেই দুই পক্ষের অবস্থান তৈরি হয়। নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মোজাম্মেল হকের যোগদানের পক্ষে একদল চিকিৎসক অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ডা. জাবেদ-সমর্থিত একটি পক্ষ মোজাম্মেল হককে এ পদে যোগদান করানোর চেষ্টা করছিল।
অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ তার যোগদানে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুই পক্ষ প্রশাসনিক ব্লকে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে মারামারি শুরু হয়। এতে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ড্যাবের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল গণমাধ্যমে বলেন, যে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটি সমাধানের পথে রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যার যার কাজে ফিরে গেছেন। বর্তমানে সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তারা পরে বিস্তারিত জানাবেন।
এনএইচ/