০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ০৪:৩৯ পিএম

ভাতা বন্ধের প্রভাব কোর্সে পড়বে: বিএসএমএমইউ ভিসি

ভাতা বন্ধের প্রভাব কোর্সে পড়বে: বিএসএমএমইউ ভিসি
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অধিভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাতা বন্ধের প্রভাব কোর্সে পড়বে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেডিভয়েসকে মুঠোফোনে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএসএমএমইউ অধিভুক্ত ১২ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাতা বন্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান জানতে বিকেলে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এ সময় ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তে কোর্স প্রভাবিত হওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কার কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘জি, শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে যে শিক্ষার্থী কমেছে, তার অন্যতম কারণ ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এখন ভাতা দেওয়া না হলে মেডিকেল উচ্চশিক্ষার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা কমে যাবে। সুতরাং ভাতা যা দেওয়া হচ্ছে, তা যেন চালু রাখা হয়।’

সহসা ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিএসএমএমইউর অবস্থান তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখেছি, কোর্সের নিয়ম অনুযায়ী অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাতা দিতে চাই। আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, ... অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলো, বেরসকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ভাতা দেওয়া হবে না।’ 

তিনি বলেন, ‘যেহেতু নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমতাবস্থায় যারা ইতিমধ্যে কোর্সে আছে, তাদের বিবেচনায় রেখে, ভবিষ্যতে নতুনদের জন্য বাস্তবায়ন করা হোক। এতে রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্সে যারা আসার আসবে, না হলে আসবে না।’

‘ভাতা বিষয়ে হার্ট ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে অনুমতি নিয়ে এসেছে। আমাদের ভাবনা হলো, তাহলে একইভাবে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে কোর্স চলছে ভবিষ্যতে তাদেরকে সরাসরি যেন বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের এখানে দেওয়ার দরকার নেই’—যোগ করেন বিএসএমএমইউ ভিসি। 

গত ৩১ জানুয়ারি বিএসএমএমইউ অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অধ্যক্ষ/পরিচালকের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ইনস্টিটিউটসমূহে নন-রেসিডেন্সি এমফিল/এমমেড/এমপিএইচ/ডিপ্লোমা প্রভৃতি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণের মাসিক পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আপত্তি নেই। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বিধায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রেসিডেন্ট/নন-রেসিডেন্টগণের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্টগণের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্ট/নন-রেসিডেন্টগণের উক্ত পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাঁদের রেসিডেন্টদের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন নিয়েছেন (কপি সংযুক্ত)। এভাবে অন্যান্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন নিতে পারে। বিষয়টি আপনার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো।’

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত