২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০১:৫৮ পিএম

‘আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও ওষুধের কার্যকারিতা অনুসরণ করে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে’

‘আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও ওষুধের কার্যকারিতা অনুসরণ করে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে দেশের প্রতিটি নাগরিককেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। আর চিকিৎসকদেরও আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং স্থানীয়ভাবে সংক্রামক রোগের জন্য ব্যবহৃত ওষুধগুলোর কার্যকারিতার ধরন অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন রোগীকে কোন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের নির্দেশনা দেবেন।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘ওয়ার্কশপ অন ক্লিনিক্যাল এনগেজমেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টিউআর্ডশিপ অ্যান্ড অ্যান্টিবায়োগ্রাম ডিসেমিনেশন অব ঢাকা মেডিকেল কলেজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রোগের জীবাণুগুলোর ওপর অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক দলিল ‘অ্যান্টিবায়োগ্রাম’ উপস্থাপন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির অ্যান্টিবায়োগ্রাম হাতে পেলেন। অ্যান্টিবায়োগ্রাম হলো নির্দিষ্ট সময়ে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যেসব সংক্রামক রোগ নিয়ে রোগী এসেছেন, সেসব রোগের জীবাণুগুলোর ওপর অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার এক বৈজ্ঞানিক দলিল। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্তকরণের আগে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দলিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে  মুমূর্ষু এবং জরুরি সেবা প্রয়োজন, এমন রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ঢামেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ বিন শহীদের নেতৃত্বে বিভাগটির সব শিক্ষকের সম্মিলিত প্রয়াসে এই অ্যান্টিবায়োগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অ্যান্টিবায়োগ্রাম উপস্থাপন করেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. উম্মে সাওদা। ২০২৪ সালে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও ওয়ার্ড বা কেবিনে ভর্তি থাকা রোগী এবং বহির্বিভাগে আগত রোগীদের জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কেমন ছিল, আলাদাভাবে সেটির উল্লেখ রয়েছে অ্যান্টিবায়োগ্রামে।

অনুষ্ঠানে এই অ্যান্টিবায়োগ্রাম কার্ড তুলে দেওয়া হয় ক্লিনিক্যাল বিভাগের চিকিৎসকদের হাতে। অ্যান্টিবায়োগ্রাম কার্ডকে কাজে লাগিয়ে সংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়বে বলে মনে করে বক্তারা। তাতে রোগের জটিলতার হার কমার পাশাপাশি সংক্রামক রোগে মৃত্যুহারও কমিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।

কর্মশালায় জানানো হয়, গত বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীরা যেসব ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকে সংক্রমিত হয়েছিলেন, সেগুলোর ওপর কোন ধরনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ কতটা কার্যকর ছিল, তারই সারসংক্ষেপ হিসেবে এই অ্যান্টিবায়োগ্রাম উপস্থাপন করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর হার অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য একজন চিকিৎসকের হাতে অ্যান্টিবায়োগ্রাম থাকা প্রয়োজন।

তারা বলছেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু সংক্রমণের হার বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। রোগের জটিলতার পাশাপাশি খরচের অঙ্কটাও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের চিকিৎসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহম্মদ। আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রতিনিধি ডা. এস এম শাহরিয়ার রিজভী, রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাবেয়া সুলতানা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ বিন শহীদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের অধীনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের সার্বিক সহায়তা করে ফ্লেমিং ফান্ড কান্ট্রি গ্রান্ট বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত