২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১২:১৩ পিএম

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের কাছে ফার্মাসিস্টস ফোরামের ছয় দাবি

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের কাছে ফার্মাসিস্টস ফোরামের ছয় দাবি
লোগো: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ ও এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি স্থায়ীভাবে ফার্মাসিস্টদের জন্য নির্ধারণসহ স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি মো. আজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৩০ হাজার গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের কাছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে এই  লিখিত সুপারিশ জমা দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সংস্কার প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্তিকরণের জোর দাবি জানাই।’

স্বাস্থ্যখাতের জন্য বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের যেসব সুপারিশ

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের কাছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. উন্নত বিশ্বের হাসপাতালগুলোতে যেখানে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা (হসপিটাল ফার্মসিস্ট), বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগ—এমনকি হাসপাতালের ওয়ার্ডেও সফলতার সাথে চিকিৎসক এবং নার্সদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে, সেখানে ১৯৬৫ সালে ফার্মেসি শিক্ষা চালু হলেও আজ ও বাংলাদেশে প্রকৃত হসপিটাল ফার্মাসিস্ট (গ্রাজুয়েট) নিয়োগ হয়নি বলে দেশের রোগীরা ওষুধ পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার ভূল ব্যবহার ও সঠিক ডোজের অভাবসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি ভুল ওষুধ সেবনে এ দেশে মৃত্যুর মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে অতীতে। বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবাকে উন্নত বিশ্বের মতো সফল করে গড়ে তুলতে হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিবেচ্চ্য বিষয় রয়েছে। তা হলো—

(ক) ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ গেজেটে (অতিরিক্ত সংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা) তফসিল-১ বিধি ২(খ) ও ৩-এ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ক্রমিক নম্বর ১২ ও ১৩০ নম্বরে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট (গ্রেড ৯) এবং ১৩৬ নম্বরে ফার্মাকোলজিস্ট (গ্রেড ৯) সরাসরি নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

(খ) ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ‘সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট পদ সৃজন বিষয়ক’ একটি পরিপত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে বহিঃবিভাগে ফার্মেসিতে একজন এবং অন্তঃবিভাগে প্রতি ৫০ শয্যার বিপরীতে একজন করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগের লক্ষ্যে পদ সৃজন এবং ফার্মেসি সার্ভিস অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২. একজন স্বনামধন্য ফার্মাসিস্টকে বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞ।

এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি), কোয়ালিটি কন্ট্রোল সিস্টেম, একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানির ম্যানপাওয়ার ম্যানেজমেন্ট, সেটাপ রাইট পিপল ইন রাইট প্লেস, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্টিভিটি, ইফেক্টিভ ইউজ অব ম্যানপাওয়ার,  প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একজন অভিজ্ঞ গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টই জানেন। সর্বোপরি একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি পরিচালনা করার জন্য সকল বিষয়ই পারদর্শী একমাত্র একজন অভিজ্ঞ গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট। এজন্য এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি স্থায়ীভাবে ফার্মাসিস্টদের জন্য নির্ধারণ করতে হবে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. পরবর্তীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদটি একজন স্বনামধন্য গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের জন্য নির্ধারণ করতে হবে।

৪. ঔষধ প্রশাসনের প্রতিটি জেলা কার্যালয়ে অন্তত দুজন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ প্রয়োজন। কেননা ঔষধ প্রশাসনের প্রতিটি জেলায় ওষুধের সঠিক বিপনন, বাজারজাতকরণ, ওষুধের সংরক্ষণ পর্যবেক্ষণে একমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টই যথাযথভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এ ছাড়া মানসম্মত ওষুধের ব্যবহার নিশ্চিতে ফার্মেসি পরিদর্শনেও গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট দক্ষতার সাথে তদারকি করতে পারেন।

এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে অন্তত প্রতিটি ১০০ শয্যার হাসপাতালের ফার্মেসিতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর পরিদর্শক পদে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

৫. স্বাস্থ্য সংস্কার বিষয়ক কমিটিতে একজন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য বিশেষ অনুরোধ।

৬. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক সকল কমিটিতে একজন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম (বিপিএফ) একটি  অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন। ফার্মেসি পেশার বিকাশ, উন্নয়ন, ফার্মেসি সংক্রান্ত শিক্ষার ক্রমাগত মানোন্নয়ন, জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ফার্মাসিস্টদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষাসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ সংক্রান্ত অন্যান্য সংস্থার সাথে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। দেশে-বিদেশে সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারেরও অধিক।

এনএআর/

  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত