১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম

চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার পেল ঢামেক হাসপাতাল

চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার পেল ঢামেক হাসপাতাল
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসাবিদ্যায় গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬’ পেয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। হাসপাতালের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬’ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ পদক তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ঐতিহ্যবাহী এ হাসপাতালে বর্তমানে ৪২টি বিভাগ এবং দুই হাজার ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট অন্তঃবিভাগ রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী বহির্বিভাগে এবং প্রায় এক হাজার ৭০০ রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। এছাড়া অন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার রোগী ভর্তি থাকেন।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটির চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় তিন হাজার আহত ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারীতেও হাসপাতালটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬’ এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথমেই খালেদা জিয়ার হয়ে তার নাতনি জাইমা রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাদির সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এ বছর মোট সাতজনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশীর আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।

মেজর জলিলের পক্ষে তাঁর মেয়ে সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তাঁর মেয়ে তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তাঁর স্বামী মনসুর হেলাল, বশীর আহমেদের পক্ষে তাঁর মেয়ে হুমায়ারা বশীর এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তাঁর মেয়ে তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তাঁর পুত্র হারুনুর রশীদসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এ বছর ঢামেকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

এর আগে বেলা ৩টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হলে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ কারি হাবিবুর রহমান। এরপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক