সিইসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
রংপুর মেডিকেলে আইডিএসের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রধান নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও হুমকির অভিযোগ এনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদ। বুধবার (১৯ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের এক দিন আগে আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে তফসিল ঘোষণা করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করেছে। নিজেদের ইশতেহার সব ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দিতে তারা আরও পাঁচ দিন সময় চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।
ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদের অভিযোগ, আইডিএসের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগের কমিটির মেয়াদ গত ৩১ জুলাই শেষ হলেও এরপরও আইডিএসের ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সহযোগিতায় রিসেপশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রার্থীদের হাইলাইট করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন জাহিদুল ইসলাম। তার দাবি, গত ১৪ আগস্ট রাতে পিন্নু হোস্টেল গেটে তাকে উদ্দেশ করে নির্বাচনে কীভাবে তিনি জয়ী হতে পারেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সিইসি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মুরসালিন রিয়াদ বলেন, নির্বাচনের সময়ের ক্ষেত্রে দুই প্যানেলই সমান সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনের তারিখ কোনো প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হয়নি।
মেডিভয়েসকে দেওয়া বক্তব্যে আইডিএস নির্বাচন কমিশনের সিইসি বলেন, ‘দুই দলই সমান সুবিধা পেয়েছে সময়ে। পরিচালক স্যারই সময় দিয়েছেন এবং তিনি যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই নিয়ম অনুযায়ী ভোটের তারিখ দেওয়া হয়েছে।’
প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তারিখ নির্ধারণ
নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে কোনো প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি উল্লেখ করে খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদ বলেন, ‘এটা ইসি এবং পরিচালক স্যারের দেওয়া তারিখ। কোনো প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে হয়নি।’
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইডিএসের ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারের অভিযোগের বিষয়ে সিইসি বলেন, আগের নির্বাচিত কমিটি কী করেছে বা ওষুধ কোম্পানির ব্যানারে কী ধরনের অনুষ্ঠান করেছে, সেটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেটিই তাদের দায়িত্ব।
ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদের নির্বাচন বয়কট
এদিকে নির্বাচন বয়কটের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদ লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিইসি। তাদের বয়কটের পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তার গতিতে হবে।’
একটি প্যানেল অংশ না নিলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সময় বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘আমি যদি ২০ তারিখের জায়গায় ২৫ তারিখ দিই, তাহলে অপর প্যানেল আপত্তি জানাচ্ছে। তাহলে তখন কি নিরপেক্ষতা এদিকে সরে আসবে?’
অন্য প্যানেলও সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি তা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা আপত্তি জানাচ্ছে।’
তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন সিইসি।
অন্যদিকে ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদ বলছে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ না থাকায় তারা নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নির্বাচন বয়কট করলেও ‘জাহিদ রিফাত প্যানেল’ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
এনএইচ/