দুর্নীতির অভিযোগে ওএসডি
মিটফোর্ডের নতুন উপপরিচালকের পদায়ন স্থগিত চায় এনডিএফ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি এবং দুর্নীতির অভিযোগে ওএসডি হওয়া ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে তাঁর স্থলালিভিক্ত করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ডা. হাবিবুর রহমানকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উপ-পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে সাড়ে ছয় কোটি টাকার ভেটার দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর জনআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওএসডি করা হয়েছিল।
এনটিএফ নেতারা বলেন, এসব অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না করেই রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের প্রশাসনিক পদে ওই কর্মকর্তাকে পদায়ন করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডা. হাবিবুর রহমানকে ওএসডি করার কারণও স্পষ্ট করা জরুরি।
বিবৃতিতে দুই দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে স্বপদে বহাল করা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন স্থগিত রাখা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্বে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দাবি বাস্তবায়ন না হলে চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গত বছরের জানুয়ারিতে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) হিসেবে দায়িত্ব পান শাহরিয়া শায়লা জাহান। সেখানে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে।
ওই বছরের ২৬ এপ্রিল এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুব রহমানের বাগবিতণ্ডার জেরে মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের রাউন্ড ও চিকিৎসা সেবা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে অনেক রোগী বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হন। ওই সময় সংবাদকর্মীরা কথা বলতে চাইলে ‘হাসপাতালের সব বিষয়ে সাংবাদিকদের নজর দেওয়ার দরকার নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ওই সময় সাড়ে ছয় কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে শাহরিয়া শায়লার বিরুদ্ধে। পরে এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন শুরু করেন। একই বছরের ১৪ অক্টোবর মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, একটি হাসপাতাল তৈরি হয় সর্বসাধারণের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের জন্য। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে টাকা দিয়ে ঢুকতে হয়।
এ ছাড়াও তত্ত্বাবধায়কের ঠিকমতো অফিস না করা, রোগীদের প্রতি অনীহা ও উগ্র আচরণসহ নানা অভিযোগ এনে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান তারা।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করে মন্ত্রণালয়।
এর আগে ডা. শাহারিয়া শায়লা জাহানের বিরুদ্ধে পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগদান না করা, অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। যেসব কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়।
এমইউ/