১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৪৫ পিএম

হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে অবহেলার প্রমাণ মেলেনি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে অবহেলার প্রমাণ মেলেনি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাস বয়সী আয়ান আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালের কোনো অবহেলার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান ও ধানমন্ডির সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল।

পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালে কোনো অবহেলার প্রমাণ তারা পাননি। শিশুটি জটিল কয়েকটি রোগে ভুগছিল বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাইভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি শিশুটির নিকটাত্মীয় নন বরং তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত দল বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ফি আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না—স্বজনদের এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। বলেন, ঘটনার সময় কনসালটেন্ট ডা. নাজমুল হকসহ দুজন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তবে হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তার কারণে চিকিৎসকরা নিরাপদ স্থানে সরে যান।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসা খরচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভ করেন আসিফ হাসান নামে এক ব্যক্তি।

লাইভে আসিফ দাবি করেন, তার ভাগ্নির ছেলেকে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বীর উত্তম সিআর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় চিকিৎসকেরা শিশুটির রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা পরিবারকে জানানো হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। কিন্তু রোববার বিকেলে হঠাৎ পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন।

এরপর শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন আসিফ। পরে পরিবারের সদস্যরা জোর করে পিআইসিইউতে ঢুকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। ডাকাডাকি করেও তখন কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি বলেও অভিযোগ করেন আসিফ।

চিকিৎসার নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকার বেশি বিল করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হতো। এছাড়া হাসপাতালের এনআইসিইউতে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক থাকেন না এবং দুজন নার্স ও দুজন আয়া দিয়ে রাতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা জানিয়েছে।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
নিনমাসের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞরা

শিশুর জটিল রোগ নির্ণয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অত্যন্ত কার্যকর

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক