১৮ জুলাই, ২০২৪ ১০:৩৮ এএম
কোটা আন্দোলন

হামলা-নির্যাতন বন্ধের আহ্বান ঢামেক ও সলিমুল্লাহর শিক্ষার্থীদের

হামলা-নির্যাতন বন্ধের আহ্বান ঢামেক ও সলিমুল্লাহর শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ জুলাই) ও আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেন তারা।

ঢামেক শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। সেই সঙ্গে এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তাদের উপর চলমান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করারও আহ্বান জানান তারা।

ঢামেক সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ—

১. বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না, তাদের উপর চলমান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে কোটা সংস্কার করতে হবে।
২. ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং এর অন্তর্গত শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী হল ও শহীদ ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী হলে স্থায়ীভাবে সকল প্রকার ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য দল) নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. কোনো বহিরাগত ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী হলগুলোতে অবস্থান করতে পারবে না।
৪. কোনো শিক্ষার্থী শারীরিক কিংবা মৌখিক কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হলে তার পক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. শিক্ষার্থীদের সিট বণ্টনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রশাসনিকভাবে করতে হবে।
৬. হলগুলোতে সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরূদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং আমাদের দাবিসমূহ না মানা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

চার দাবি সমিুল্লাহ’র শিক্ষার্থীদের

স্যার সমিুল্লাহ মেডিকেলে কোটাবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। চার দফা দাবিসম্বলিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধেরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। 

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হলো— 

১. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং এর অন্তর্ভুক্ত রুমানা পারভিন হল, সাগর মল্লিকা হল, নিউ বিল্ডিং, ইন্টার্ন ছাত্র এবং ছাত্রী হল, আলাউদ্দিন হল এবং ছাত্র মেইন হলে স্থায়ীভাবে সকল প্রকার ছাত্র/ছাত্রী রাজনীতি (ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির, ছাত্রইউনিয়নসহ অন্যান্য দল এবং রাজনৈতিক ক্লাব) নিষিদ্ধ করা হবে।

২. ১৬ জুলাই, ২০২৪ এ মেডিকেল ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর করা হামলার সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের (সাব্বির ৪৬, তন্ময় দাস ৪৬, সাদেকুল ইসলাম, ইচিপ ও ইন্টার্ণ, গোলাম রসুল জয় ৪৫, দুর্জয় পাল ৪৪, শাফিনাজ হাসান তালুকদার ৪৪, শাকের আহমেদ ৪৬, নিশান ৪৯, সাফওয়ান ৪৯, আনিসুর ডি৯) অবিলম্বে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করতে হবে।

৩. হলগুলোতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের হাতে কোনো শিক্ষার্থী যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৪. প্রিন্সিপালের কক্ষে অবস্থানের সময় প্রিন্সিপাল ও একাডেমিক কাউন্সিলের উপস্থিতিতে কীভাবে অপরাধীরা রড ও ভারী অস্ত্র জোগাড় করলো ও হামলা করলো এবং উপস্থিত শিক্ষকরা হামলা ঠেকানোর সুযোগ থাকার পরও কেন ঠেকালো না-
এ ব্যাপারে সবার সম্মুখে প্রিন্সিপালকে জবাবদিহি করতে হবে।

(পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের পরোক্ষভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করা সকল শিক্ষক, কর্মকতা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে আজীবন কলেজ চত্ত্বরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।)

চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ছাড়াও এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও।

আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন।

চলমান আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৫ জুলাই) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিকেলের এমবিবিএসের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকেই স্ব স্ব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করেন বিভিন্ন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। রাস্তায় নেমে সড়কও অবরোধ করা হয়েছে কোথাও কোথাও। এ ছাড়াও আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদেরও।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন
প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত