করোনাভাইরাস
এবার ‘দুই মিটার’ দূরত্বের বক্তব্যে সমালোচনার মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে বির্তক যেনো পিছুই ছাড়ছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। একের পর এক স্ববিরোধী অবস্থানে সংস্থাটির উপর আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ‘দুই মিটার’ নিয়ম নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রবীণ বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রভাবশালী একটি গবেষণায় ত্রুটি থাকার কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে উপসর্গহীন রোগীদের দ্বারা কম সংক্রমিত হওয়ার বক্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছিল সংস্থাটি।
রোববার (১৪ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নির্ধারণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর নির্ভর করতে পারছেন না। তাঁরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনটিতে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
সংস্থাটির সামাজিক দূরত্ব বিষয়ক নীতির সমালোচনা করে তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণার অনুযায়ী দূরত্ব ২ মিটার থেকে ১ মিটারে কমিয়ে আনলেও ঝুঁকি সামান্যই বাড়ে, যা মাত্র ১ দশমিক ৩ ভাগ থেকে ২ দশমিক ৬ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মানুষকে দুই মিটারের বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে বলাকে অতি সাবধানতা বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের জরুরি অবস্থাকালীন বৈজ্ঞানিক পরামর্শক দলের অন্যতম সদস্য ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ অধ্যাপক ডেভিড স্পিগেলহাল্টার বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ২ মিটার বনাম ১ মিটার সংক্রমণের ঝুঁকির বিশ্লেষণকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বিশ্লেষণটিকে অনুপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘২ মিটারের বিপরীতে ১ মিটার দূরত্বে সংক্রমণের ঝুঁকি কতোটা বেশি তার পক্ষে যুক্তি ও আলোচনা নিতন্তই অপ্রয়োজনীয়।’
উল্লেখ্য, ‘ল্যানসেট’ সাময়িকীতে এ গবেষণাসংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে গবেষণা নিবন্ধ লেখা, পর্যালোচনা ও প্রকাশ দ্রুতই হচ্ছে, যাতে যথেষ্ট মান বিচার করা হচ্ছে না। এর আগে এ মাসের শুরুতে ‘ল্যানসেট’ ও ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’ তাদের প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে ত্রুটি পাওয়ায় তা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ২ মিটার দৈহিক দূরত্ব নিয়মটির একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ঘোষণা দেওয়ার পর এই গবেষণা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। ওই সময় যুক্তরাজ্যের বার ও রেস্তোরাঁ আবারও চালু হতে পারে। সম্প্রতি বরিস জনসন এই খাতের ব্যবসায় সহায়তা করতে লকডাউন শিথিল করার জন্য কনজারভেটিভ এমপিদের তীব্র চাপের মধ্যে পড়েছেন।
অন্টারিওর ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রতিবেদনের আগে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যকে বিভিন্ন দূরত্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনুমান করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা কীভাবে রোগের বিস্তার রোধে সহায়তা করতে পারে, সেই বিবেচনা করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষণে লেখকেরা ২ মিটার থেকে ১ মিটারে যাওয়ার ঝুঁকির আনুপাতিক প্রভাবটি ১ মিটার থেকে শূন্যের দিকে যাওয়ার সমান বলে ধরে নিয়েছেন।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪