২৩ অগাস্ট, ২০২০ ০১:২৪ পিএম

আজীবন থাকতে পারে করোনা, ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর হুঁশিয়ারি

আজীবন থাকতে পারে করোনা, ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর হুঁশিয়ারি

মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পৃথিবী থেকে চিরতরে নির্মূল হবে না; বরং ‘কোনও না কোনভাবে তা চিরকাল থাকতে পারে’ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের জরুরি পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ কমিটির একজন সদস্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২ বছরের মধ্যে করোনাভাইরাস দূর হয়ে যাবে বলে মন্তব্যের পরই এমন মন্তব্য করেছেন স্যার মার্ক ওয়ালপোর্ট।

তিনি বলেন, ‘এই মারণ ভাইরাস সহজে যাওয়ার নয়। বেশ কয়েক দফা ভ্যাকসিন প্রয়োগ ছাড়া রেহাই নেই। একমাত্র নিয়মিত প্রতিষেধকেই করোনা-মুক্তি সম্ভব।’

শনিবার (২২ আগস্ট) বিবিসির রেডিও ফোরের টুডে প্রোগ্রামে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস স্মল পক্সের মতো কোন রোগ নয় যে, টিকা দিলেই সেটা চলে যাবে। এটা এমন একটা ভাইরাস যা কোন না কোন আদলে আজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যাবে। আর অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, মানুষজনকে বার বার টিকা নিতে হবে। সুতরাং ফ্লুর মতো মানুষজনকে নিয়মিত বিরতিতে টিকা নিতে হবে।’

স্যার মার্ক বলেছেন, ঘন জনবসতি আর ভ্রমণের কারণে ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু’তে কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষ মারা যান। স্যার ওয়ালপোর্ট স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সেই সময় পৃথিবীর জনসংখ্যা ও যোগাযোগ যে অবস্থায় ছিল আজকে এসে তা একই জায়গায় নেই। তিনি সতর্ক করেছেন,  করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিপর্যয় ডেকে আনবে। সুতরাং লকডাউন পরিবর্তে বিকল্প উপায় বের করতে হবে, যেন মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যায়।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বলেছিলেন, বর্তমান বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি এই ভাইরাসটিকে তার চেয়েও কম সময়ে আটকে দিতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস এর আগে বলেছিলেন, ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুকে পরাস্ত করতে দুই বছর লেগেছিল। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এখন তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই বিশ্ব করোনাভাইরাসকে হটাতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় আট লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, পরীক্ষা করা হয়নি বা লক্ষণ দেখা যায়নি, এমন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান দেশগুলোয় আবারো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। যেমন দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সফল বলে মনে করা হয়েছিল, সেসব দেশেও নতুন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন মোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৫ জন। আর এই সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩,৯০৭ জন।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
পুনরায় সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

পুনরায় সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও