২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৬ এএম
ছাত্র নির্যাতনে সম্পৃক্ততা

সিওমেক হাসপাতালে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির পদায়ন বাতিল

সিওমেক হাসপাতালে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির পদায়ন বাতিল
ডা. মাহমুদুল হক রিফাত। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) শাখার সাবেক সভাপতি গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হক রিফাতকে সিওমেক হাসপাতালে পদায়ন করে দেওয়া আদেশ বাতিল করা হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মেডিকেলে পড়াশোনার সময় তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ডা. মাহমুদুল হক রিফাত, (কোড-১৪৮০৬০), পদের বিপরীতে মেডিকেল অফিসার, গোপালগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, গোলাপগঞ্জ, সিলেট, সিলেট, মূল পদঃ অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন/ইকুইভালেন্ট। এতদ্বারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক- ৪৫.০১,০০০০,০০০,০০৪,১৯,০০০২.২৬.২৬-৬৯৬ তাং-২৩-০৭-২০২৬ ইং ক্রমিক- ৫ এর আদেশ বাতিল করা হল।’

জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হলো জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, পদায়ন/বদলিকৃত পদে/পদসমূহে কোন কর্মকর্তা মুভইন না করা অবস্থায় কর্মরত থাকিলে তিনি পরবর্তী পদায়নের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ন্যস্ত হবেন। আদেশে পদায়িত কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে যোগদান করবেন এবং যোগদান ব্যতিত আদেশ পুনঃ বিবেচনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে একই দিন ডা. মাহমুদুল হক রিফাতকে সিওমেক হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ডা. রিফাতকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মূল পদ সহকারী সার্জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে মাহমুদুল হক রিফাতকে সভাপতি এবং সজল এস চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের চার সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ। পরে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

এ সময়ের একটি সাংগঠনিক চিঠিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল পারিবারিক কারণে বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তৎকালীন সহসভাপতি সৌরভ সরকারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন মাহমুদুল হক রিফাত।

ডা. রিফাতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সিওমেকের আবু সিনা ছাত্রাবাস থেকে ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফুল হককে নির্যাতনের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন মাহমুদুল হক রিফাত ও তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক সজল এস চক্রবর্তী।

‘যেই হাতে নির্যাতন, সেই হাতে সেবা মানায় না’

ডা. মাহমুদুল হক রিফাতের সিওমেকে পদায়নের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

‘খুব সুন্দর লীগ পুনর্বাসন’—এমন ব্যাঙ্গোক্তি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক শিক্ষার্থী রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রিফাত ছাত্রলীগের সিওমেক শাখার সভাপতি ছিল। ওই সময়টা ছিল ওদের (আওয়ামী লীগ) দুঃশাসনের পিক আওয়ার। তখন আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। এমন ঘটনায় অগ্রভাব থেকে তার সম্পৃক্ততা ছিল। এখন ও যদি আবার একই ক্যাম্পাসে আসার সুযোগ পায়, তাহলে ওই মানুষগুলোর জন্য তো স্বাভাবিকভাবেই মর্মপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যারা ওদের সময় নির্যাতিত ছিল। যারা মানুষকে (শিক্ষার্থী) এ রকম নির্যাতন করলো, তারা আবার কীভাবে মানুষের (রোগী) সেবায় যুক্ত হবে? এক হাতে সেবা ও নির্যাতন তো মানায় না?’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত