বিএমইউতে শিশু ক্যান্সার সচেতনতায় র্যালি ও মানববন্ধন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘ভয় নয়, সচেতনতা; বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা’ স্লোগানে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া।
এ সময় বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ এবং শিশু অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক এবং পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের জানানো এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করতেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ও কিশোর-কিশোরী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে সচেতনতার অভাব, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসতে পারে না।
এ সময় বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; শিশুরাও এ কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’
তিনি জানান, শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সালে। পরে ২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের ধারণা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণাকে উৎসাহিত করা এবং আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া বলেন, শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
তিনি বলেন, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে শিশু ক্যান্সার নিয়ে ভুল ধারণা ও অযথা ভয় কমানো এবং চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, শরীরে কালশিটে দাগ বা অস্বাভাবিক রক্তপাত, হাড়ে ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পুরোপুরি জানা যায় না। দেশে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় এ বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেক শিশুর রোগ সময়মতো শনাক্ত হয় না এবং অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায়ও আসতে পারে না।
তারা বলেন, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়ক চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এ সময় বক্তারা শিশু ক্যান্সারের তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধনের জন্য দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমআই/