২১ জুলাই, ২০২৫ ০৩:৩১ পিএম

চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন সময়ের দাবি: বিএমইউ ভিসি

চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন সময়ের দাবি: বিএমইউ ভিসি
চিকিৎসা বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে এআইয়ের ব্যবহার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ ছাড়া বিএমইউ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বিএমইউ যৌথভাবে কাজ করবে।

আজ সোমবার (২১ জুলাই) বিএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ইন মেডিকেল সায়েন্স: টুডে অ্যান্ড টুমোরো’ শীর্ষক ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ব্যবহার অনিবার্য। কোনোভাবেই এআই থেকে দূরে থাকা যাবে না। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নিয়ে এআইয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে উল্লেখ করে ভিসি বলেন, প্যাথলজি, রেডিওলজি, অনকোলজিসহ বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সহজ, গতিশীল ও নিখুঁত করতে এআই বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে মেডিকেল সায়েন্সে এআইয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএমইউকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর উপকারিতা রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বিএমইউসহ দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক শাহিনুল আলম।

এআই ছাড়া উপায় নেই উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এআইয়ের ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যান্সারের মতো রোগকেও দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এআইকে ধরতে না পারলে মেডিকেল সায়েন্সে পিছিয়ে যাব।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এআইয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএমইউ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) যৌথভাবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এআইভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আগামীদিনে রোগীদের স্বার্থ ও কল্যাণে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রেই এ আই এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় এআইয়ের অবদান আজ বিশ্বব্যাপী সর্বজন স্বীকৃত। বিষয়টি নতুন হলেও এআইয়ের সাথে অবশ্যই সকলকেই যুক্ত হতে হবে।

সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: দ্য ল্যান্ডস্কেপ ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। এ ছাড়া বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন ‘এআই ইন অনকোলজি: আ প্যারাডাইম শিফট ইন ক্যান্সার ডায়াগনোসিস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ শীর্ষক প্রবন্ধ এবং বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌফিক হাসান ‘এআই ইন মেডিসিন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের উপকারিতা, সুযোগ ও সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি তুলে ধরেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসা। এতে সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মোর্শেদ মামুন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত