০৯ জুলাই, ২০২৫ ০৬:২৫ পিএম
ক্লাসে আগ্রহ থাকলেও প্রশাসনের নির্দেশনায় সিদ্ধান্তহীনতায় শিক্ষার্থীরা

ঢামেকের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু শনিবার, নবীন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ

ঢামেকের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু শনিবার, নবীন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বন্ধের ২০ দিন পর আগামী শনিবার (১২ জুলাই) শুরু হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কার্যক্রম। আগের দিন শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হোস্টেলে উঠতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ওরিয়েন্টেশন বর্জন করা নবাগত কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ স্বশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্লাসে ফিরতে চাইলেও কলেজ প্রশাসনের এমন নির্দেশনায় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ উপস্থিত হতে নির্দেশনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় ওই সভায়। পরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাডেমি কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম আগামী ১২ জুলাই আরম্ভ হবে। হোস্টেলসমূহ আগামী ১১ জুলাই সকাল ৮টায় খুলবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, শনিবার একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। আগের দিন হোস্টেল চালু হবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে চাচ্ছে। অন্যান্য মেডিকেল কলেজ পড়ালেখায় এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তারাও চাচ্ছে ক্লাস শুরু হোক।

দাবি-দাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা (শিক্ষার্থীরা) বিশ্বাস করে যে তাদের দাবির সাথে আমরা একমত। মন্ত্রণালয় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তারা আশা করছে, আমরা যেন চাপ অব্যাহত রাখি। কিন্তু চাইলেই তো হঠাৎ করে ১৪-১৫ বছরের সমস্যার সমাধান করে ফেলা সম্ভব না। এটি শিক্ষার্থীরা বুঝেন।’

ওরিয়েন্টেশন বর্জন করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ

এদিকে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে নবাগত কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ আয়োজিত ঢাকা মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস কে-৮২ ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা গত ১৭ জুন ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বর্জন করে, যা কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত নয়। ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বর্তমান নীতিগত অবস্থান ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্তপূর্বক লিখিতভাবে জানানোর জন্য প্রকৃত অভিভাবকসহ অধ্যক্ষের দপ্তরে স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

শিক্ষার্থীদের ‘স্বশরীরে হাজির’ হতে সময়ও বেঁধে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৪ জুলাই রোল ১ থেকে ৯০, পরদিন ৯১ থেকে ১৮০ এবং ১৬ জুলাই ১৮১ থেকে ২৬৩ রোল নম্বরধারীদের উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নতুন ব্যাচের যারা ওরিয়েন্টেশন বয়কট করেছিল, তারা তো এখনও আমার ছাত্র হয়নি। তারা কেন বয়কট করলো—সেটার কৈফিয়তও তলব করিনি। তাদের নতুন করে সিট দিতে হবে, এজন্য ওই ব্যাচটাকে ডাকা হয়েছে।’

‘হতবাক শিক্ষার্থীরা’

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করা শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে চান। কিন্তু নবাগত শিক্ষার্থীদের আলাদা করে ডাকায় ‘হতবাক’ হয়েছেন তারা। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দোলাচলে পড়েছেন। একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ করে এমনটাই জানা গেছে। যৌক্তিক আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ওরিয়েন্টেশন বর্জন করায় কে-৮২ ব্যাচকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, কে-৮২ ব্যাচকে শোকজের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। জুনিয়ররাও বিষয়টিতে নাখোশ।

ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে এক শিক্ষার্থী বলেন, সবাই ক্লাসে ফিরতে চাই। কিন্তু অধ্যক্ষের হঠকারী নির্দেশের কারণে এখন কী করব, তা বুঝে উঠতে পারছি না।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ আবাসন ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে ১৭ জুন আন্দোলন শুরু করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। ওই দিন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বঘোষিত ওরিয়েন্টেশন বর্জন করে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেন নবীনতম ব্যাচ। পরে ২১ জুন কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা হলত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে ২৩ জুন সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। একই দিন শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন অনড় থাকার সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ফলে স্থবিরতা তৈরি হলে ক্লাসে ফিরতে প্রস্তুত হন তারা।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত