০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৪:৪০ পিএম
বিএসএমএমইতে স্মরণসভায় বক্তারা

‘অধ্যাপক আহমেদ আবু সালেহর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে’

‘অধ্যাপক আহমেদ আবু সালেহর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে’
অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহর স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান ও অধ্যাপক ডা. মো. শাহীনুল আলম (বামে)। ডানে অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ। ছবি: সংগৃহীত।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের প্রাক্তন ডীন ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসিক সায়েন্স ও প্যরাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদ এর আয়োজন করে।

অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ গত ১৩ নভেম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

গুণী শিক্ষক অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, দেশকে তাঁর আরো অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। তিনি একদিকে যেমন ভালো শিক্ষক ছিলেন, তেমনি ভালো মানুষও ছিলেন। বিপদে তিনি সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি অসম্ভব সাহসী ও চিন্তাশীল মানুষ ছিলেন। আইন-কানুন, বিধি-বিধান সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল অনন্য। মেডিকেল সায়েন্সে তাঁর অবদান অপরিসীম।

বিএসএমএমইউর বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহীনুল আলম বলেন, অধ্যাপক আহমেদ আবু সালেহ একজন মহান শিক্ষক ছিলেন। লেখাপড়ার বিষয়ে তাঁর কাছে গেলে যে পরিস্থিতিতেই তিনি থাকুন না কেন, ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করতেন। সারাক্ষণ তিনি কাজ করতে পছন্দ করতেন। তিনি শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের রোল মডেল ছিলেন। মেডিকলে শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আকতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ প্রমুখ।

এ ছাড়া সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন মিয়া ও অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, অধ্যাপক ডা. মো. মোজ্জাম্মেল হক, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

এ সময় অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহর ছোট বোন মিসেস এহসানীও উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহর বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৬২ সালের ১০ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার বালিকান্দি গ্রামে মরহুম আবদুল বারি তারাফদার ও সৈয়দা আমেনা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার বড় ভাইও একজন চিকিৎসক।

১৯৭৭ সালে পাবনা জেলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ হন অধ্যাপক সালেহ। এরপর ১৯৮৫ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চ বা আইপিজিএমআর (বর্তমান বিএসএমএমইউ) থেকে মেডিকেল মাইক্রোবায়েলজিতে এমফিল সম্পন্ন করেন।

অধ্যাপক সালেহ ১৯৯৫-১৯৯৮ পর্যন্ত ৪ বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি আইপিজিএমআরে যোগ দেন। ১৯৯৮-২০০৩ সময়কালে বিএসএমএমইউতে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৩-২০০৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০১০-২০২৩ সাল পর্যন্ত বিএসএমএমইউর বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্সের কোর্স ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি বিএসএমএমইউর মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩-২০২৪ সালে বেসিক ও প্যারিাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন ছিলেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক সালেহ আইসিডিডিআর,বির এথিক্যাল রিভিউ কমিটির সদস্য (২০১৯-২০২৪), কো-চেয়ারপার্সন এবং চেয়ারপার্সন হিসেবেও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিএসএমএমইউর ল্যাব সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

দেশের মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজির খ্যাতনামা এই ব্যক্তিত্ব অসংখ্য গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন। তার লেখা ‘হিউম্যান সাইকোলোজি’ ছাত্রদের জন্য একটি আবশ্যিক পাঠ্য বই। তার সহধর্মিণী নুরজাহান হেলেন প্রসূতি ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ।

গত ১৩ নভেম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত