২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৩৩ পিএম
জাতিসংঘের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের দুজন স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনায় সামর্থ্যহীন

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের দুজন স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনায় সামর্থ্যহীন
ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দু্ইজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই—এমন তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ছয় শতাংশ অর্থাৎ ছয় কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারেননি। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশেই এই হার সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে জতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)।  

প্রতিবেদনে 'স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা' বলতে প্রতিদিন মাথাপিছু দুই হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী,  ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। বাংলাদেশে এ হার ৩৮ দশমিক ছয় শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ, অর্থাৎ ৩২ দশমিক সাত শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। এর মধ্যে আফ্রিকায় এ হার সবচেয়ে বেশি ৬৬ দশমিক ছয় শতাংশ। এরপর রয়েছে এশিয়া ২৮ দশমিক নয় শতাংশ) এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ২৫ দশমিক সাত শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় ব্যয় ২০১৭ সালের তিন দশমিক নয় ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে চার দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ ব্যয়ের বড় অংশই প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল ও শাকসবজি কেনার পেছনে খরচ হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান (ছয় দশমিক ১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫ দশমিক ২১ ডলার) পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এ ধরনের খাদ্যের গড় খরচ এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম, তিন দশমিক ৯৪ ডলার।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২ দশমিক আট শতাংশ বা প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮ দশমিক ছয় শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দামের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। 

এমআর/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক