ফাইনাল প্রফে ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্লেসধারী ৩ জনই নারী শিক্ষার্থী
সাখাওয়াত হোসাইন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা মে-২০২৩ এর ফলাফলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (এমএমসি) থেকে প্লেস অর্জন করেছেন তিন শিক্ষার্থী। প্লেসধারী শিক্ষার্থীরা হলেন- ডা. শাফীন সেহেলী খান, ডা. ফারিহা ফাইজাহ ইসলাম ও ডা. ফাতিমা শান্তা।
রোববার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ফাইনাল প্রফের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্লেসধারীদের মধ্যে ডা. শাফীন সেহেলী খান প্রথম স্থান, ডা. ফারিহা ফাইজাহ ইসলাম ষষ্ঠ স্থান ও ডা. ফাতিমা শান্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম স্থান অর্জন করেছেন। তাঁরা ছাড়াও এ বছর এমএমসি থেকে বিভিন্ন বিষয়ে মেডিকেলের সর্বোচ্চ নম্বর অনার্স মার্ক পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন মোট ২০ জন শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫০টিরও অধিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে, এতে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি—এই তিনটি বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে ডা. শাফীন সেহেলী খান সব বিষয়ে অর্জন মার্ক পেয়েছেন, ডা. ফারিহা ফাইজাহ ইসলাম মেডিসিন ও গাইনিতে এবং ডা. ফাতিমা মেডিসিনে অনার্স মার্ক পেয়েছেন। প্লেস ছাড়াও এমএমসির ফাইনাল প্রফের ২২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেডিসিনে ১৮টি, সার্জারিতে ২টি, গাইনিতে তিনটি অনার্স মার্ক পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে ডা. শাফীন সেহেলী খান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এই অনুভূতিটা প্রকাশ করাটা আসলে খুব কঠিন। ফলাফল দেখে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, এতো ভালো ফলাফল করতে পেরেছি। স্যার-ম্যামরা অনেক সহযোগী ছিলেন। শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি রয়েছে, তাঁরা অসাধারণভাবে পড়িয়েছেন। ফলাফল দেখে আমার আব্বু-আম্মু অনেক খুশি হয়েছেন।’
ডা. শাফীনের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়, বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহ জেলা শহরে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। ডা. শাফীনের বাবা ও মা দুজনই চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধ্যাপক। ডা. শাফীন ময়মনসিংহ শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ সম্পন্ন করেন। এর আগে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান, দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান, তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স মার্ক পেয়েছিলেন ডা. শাফীন সেহেলী খান।
ডা. ফারিহা ফাইজাহ ইসলাম বলেন, ‘অনুভূতি আসলেই অন্যরকম, ভালো রেজাল্টের আশা ছিল, কিন্তু আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এ ফলাফলে আমার শিক্ষকদের অনেক অবদান রয়েছে। তাদের ছাড়া কখনোই সম্ভব হতো না। তাঁরা সারা বছর যেভাবে নিয়মিত লেকচার নিয়েছেন, পরীক্ষার আগে হাতে ধরে ওভাবেই আবার রিভিশন করিয়েছেন, যে কারণে সবকিছু একটু সহজ হয়েছে।’
ডা. ফারিহার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়, বেড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি মেঝো। ডা. ফারিহার বাবা সরকারি চাকরিজীবী এবং মা গৃহিনী। ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন। এর আগে তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স মার্ক পেয়েছিলেন ডা. ফারিহা। এমবিবিএস ২০১৭-১৮ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ৬৯১ তম স্থান অর্জন করেন এমএমসির কৃতি এ শিক্ষার্থী।
ডা. ফাতিমা শান্তা বলেন, ‘ফলাফল দেখে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না, এতো ভালো ফলাফল হবে এবং প্লেস আসবে। আল্লাহর কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা। আমার এ ফলাফলে বাবা-মা, শিক্ষক, ব্যাচমেট এবং সিনিয়রদের অনেক অবদান রয়েছে।’
ডা. ফাতিমা শান্তার গ্রামের নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে ডা. ফাতিমা মেঝো। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিনী। রাজধানীর একে হাই-স্কুল থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ডা. ফাতিমা। এর আগে তিনি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় এনাটমিতে অনার্স মার্ক পেয়েছিলেন। আর এমবিবিএস ২০১৭-১৮ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ৬৯০ তম স্থান অর্জন করেছিলেন নবীন এ চিকিৎসক।
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১০ নভেম্বর, ২০২৪
-
১০ অক্টোবর, ২০২৪
অছাত্রদের ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ
মমেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে বহাল
-
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২৮ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৬ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৫ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৯ অক্টোবর, ২০২৩