এক ব্যাগ রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে তিন ব্যাগ বানিয়ে বিক্রি করতেন তারা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল থেকে রক্ত চুরির সময় দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্তের ব্যাগ চুরির সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- তারাকান্দা উপজেলার গোয়াইলকান্দি গ্রামের আবদুর রহমান খানের ছেলে মো. নাঈম খান পাঠান ও ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া মড়ল বাড়ি এলাকার মিন্টু চন্দ্র দের ছেলে তুষার চন্দ্র দে ওরফে মো. আবদুল্লাহ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে শনিবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রক্ত চুরির খবর পেয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তারা বিক্রি করতেন। এরা অনেক বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত। নগরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন তাঁরা। মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে, এমন ব্যক্তিদের রক্ত সংগ্রহ করে, সরকার অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত না নিয়ে, ভুয়া ব্লাড ব্যাংকের নামে এসব রক্ত বিক্রি করে। যা মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
ওসি বলেন, এই চক্র নির্মূল করা না গেলে মানুষের জীবনের অবর্ণনীয় ক্ষতি হতে পারে। আপাতত চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি, বাকিদেরকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রক্ত বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে খরিদ্দারের মোবাইলে যোগাযোগ এর মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে রক্ত বিক্রি করে এ সিন্ডিকেট। তাদের নেই কোনো সরকারি ট্রেনিং বা লাইসেন্স। তারা রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে এক ব্যাগ থেকে তিন বা চার ব্যাগ রক্ত বানাতেন। বিষাক্ত এই রক্ত রোগীরা গ্রহন করলে সুস্থ হওয়ার বদলে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তেন।
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থেকে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক, কমিউনিটিভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংক, ময়মনসিংহ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, নিরাপদ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার- এই চারটি ব্লাড ব্যাংক অনুমোদিত। কিন্তু কয়েকটি নামসর্বস্ব ব্লাড ব্যাংকের ক্রসম্যাচিং রিপোর্ট রয়েছে আমাদের হাতে। এর মধ্যে রয়েছে রেটিনা ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, সেইফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার, নির্নভ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার, সেইফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, জনতা ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার। কিন্তু সেগুলোতে চরপাড়া ও মাসদাকান্দা ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম মুমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, নগরীতে অনেকগুলো অবৈধ ব্লাড ব্যাংক পরিচালিত হয়। যেগুলোর সঠিক কোনো ঠিকানা কাগজে ব্যবহার করা হয় না। তারা সুবিধামতো বিভিন্ন ক্লিনিকে ব্লাড ট্রান্সফিউশন করে রোগীদের কাছে বিক্রি করে। স্যালাইনের মাধ্যমে এক ব্যাগ রক্তকে তিন-চার ব্যাগ বানিয়ে বিক্রি করে। নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। দীর্ঘদিন এ চক্রটি তৎপরতা চালালেও দেখভালকারী কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যার কারণে, দিন দিন চক্রটি বড় হয়েছে ও মানুষ প্রতারিত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, চক্রের তৎপরতা বন্ধে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা কাজ শুরু করেছি। নগরে নিবন্ধিত চারটি ব্লাড ট্রান্সমিউশন সেন্টার রয়েছে। এসব সেন্টার ছাড়া বাইরে থেকে রক্ত নিলে তা রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো উচিত নয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, একজন রোগীর কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্তের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা নিলেও রক্ত দিচ্ছিল না। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে, প্রশাসনিক তৎপরতায় চক্রের সদস্যরা আটক হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রক্ত বিনিময়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে রোগীদের ভয়াবহ পরিণতি হবে।
এসএইচবি/এসএইচ
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১০ নভেম্বর, ২০২৪
-
১০ অক্টোবর, ২০২৪
অছাত্রদের ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ
মমেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে বহাল
-
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২৮ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৬ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৫ এপ্রিল, ২০২৪
-
০৯ অক্টোবর, ২০২৩