মেডিভয়েসকে ঢাবির সাবেক ভিসি
‘বেঁচে না থাকলে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে কি হবে?’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ পরীক্ষা নেওয়া যেতে পরে।
বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেলে মেডিভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
দুই এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ঢাবির সাবেক ভিসি বলেন, যেসব পরীক্ষায় প্রচুর শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, সেসব পরীক্ষায় ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। তারপরও কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার আয়োজন করতে চাইলে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ করাটাই বাঞ্চনীয়। সেটি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা—জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তা দেখা জরুরি।
এ ব্যাপারে গণমাধ্যমেরও বিরাট ভূমিকা পালন করা উচিত উল্লেখ করে ড. আরেফীন সিদ্দিক বলেন, জীবনের সর্বক্ষেত্র স্থবির করা যাবে না। কিছু কিছু কার্যক্রম চলমান রাখতেই হয়। যেমন হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অগ্নিনির্বাহক কেন্দ্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—এ রকম কিছু জায়গা আছে যা কোনোভাবেই…, এমনকি যুদ্ধের সময়ও চালু রাখতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের জানা আছে। কিছু কিছু জায়গা আছে আমরা সেটাতে অপেক্ষা করতে পারি। পরীক্ষাগুলোও এমনই একটা বিষয়। যদি সরকারি চাকরির পরীক্ষা অথবা ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ রেখে দুই মাস বা তিন মাস পরে নেওয়া হয়, তাতে রাষ্ট্রের খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে না।’
‘কিন্তু যদি ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার হলে নিয়ে আসা হয় এবং সে ভর্তির সুযোগও পায় তাহলে কি হবে, যদি সে বেঁচে থাকতে না পারে? সরকারি চাকরি দিয়ে কি হবে যদি জীবনের ঝুঁকি এসে যায়। এমনটি হলে তার পরিবারের জন্য বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। এ বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের চিন্তাভাবনা করা উচিত’, যোগ করেন ঢাবি সাবেক ভিসি।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না থাকায় শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। এ দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তাঁরা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ মার্চ পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট করা হয়। তাইমুর খান বাপ্পির পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মুনতাসির মাহমুদ রহমান। এতে শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
তবে গত ২৪ মার্চ বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চে রিটটি খারিজ হয়ে যায়।
এর আগে একই দিন দুপুরে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ওই দিন সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশিজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা না নিলে জাতীর এই মেধাবি মুখগুলোর ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এসব বিবেচনায় রেখে ২ এপ্রিলই দেশে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষাটি স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে সরকারের পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা শাখা, শিক্ষা বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল শাখা মিলে টিম-ওয়ার্ক ও কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে ও কেন্দ্রের আশপাশে এলাকার স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখবে।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে দূরত্ব বজায় রেখে বসবে। মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। তারা কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত চার ফেব্রুয়ারি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার তারিখ অনুমোদন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের স্বাক্ষরিক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ এপ্রিল এমবিবিএস ও ৩০ এপ্রিল বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়