০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:১৫ পিএম

দাবি পূরণ না হওয়ায় সভা ত্যাগ, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা চিকিৎসকদের

দাবি পূরণ না হওয়ায় সভা ত্যাগ, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা চিকিৎসকদের
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্থানীয় ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিষয়টি জানানো হয়।

ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন—১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব। এর মধ্যে মনির ছাড়া বাকিরা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন তানবিন শেখ ও মো. সিফাত। ইতোমধ্যে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের সপ্তমতলায় আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনেরা দেশীয় অশ্র দিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন এবং চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। পরদিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে থেকে বয়েজ হোস্টেল, লেকচার গ্যালারি ও লাইব্রেরিতে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এর পাশাপাশি, ইমার্জেন্সি ও এডমিশন রুম ব্যতীত হাসপাতালের আউটডোরসহ সকল কক্ষ তালাবন্ধ রাখা হয়। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

পরিস্থিতি নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শজিমেক মিলনায়তনে জরুরি বৈঠকে বসেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষনেতা এবং বিএমএ ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা।

এ সময় বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৫ জনকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান।

তবে বৈঠকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কথা বললেও পরবর্তীতে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে আজকের বৈঠকে আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরি। কিন্তু দাবিগুলো আদায় না হওয়ায় আমরা বিনয়ের সাথে সভা ত্যাগ করি। তবে আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বৈঠকে স্যারদের আশ্বাসে আমরা সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু বৈঠক শেষেও হামলার মূল হোতা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং আমাদের বাকি দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট দাবি হলো—হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত আনসার সদস্য মোতায়েন করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শয্যাসংখ্যার অনুপাতে জনবল নিয়োগ এবং ওয়ার্ডে বিশৃঙ্খলা এড়াতে রোগীর সাথে একজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই কর্মস্থলে ফিরে যাব না।’

বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক অভিভাবকসুলভ নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেওয়া দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, হাসপাতালে আর্মড আনসার ও সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জেএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক নিগ্রহ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত