০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪ পিএম

অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুতে সম্পৃক্ততায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির বকি সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু ও বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিসে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ  আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অনেকে এ ধরনের আবেদন করেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসছে। এ কারণে আমরা এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিতে অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ফার্মাকোলজিস্টরা রয়েছেন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

সম্প্রতি ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ ও একই বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডে সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ ও উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

‘ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান’—বলা হয় অভিযোগপত্রে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবীর ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর আফতাবনগরে ডা. জাহাঙ্গীর কবীরের মালিকানাধীন ‘জে কে লাইফ স্টাইল’ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আমদানিকারকের স্টিকার ছাড়া পণ্য বিক্রি ও মোড়কের গায়ে সঠিক তথ্য না থাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

এমআর/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক