৩১ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:৪৮ এএম

চিকিৎসক নিগ্রহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সচেতন হোন

চিকিৎসক নিগ্রহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সচেতন হোন
অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, চিকিৎসকদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ  ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রচারণা শুধু চিকিৎসকদের জন্য নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। রোগীর স্বার্থে চিকিৎসকের ভুলের সমালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি; তবে ঢালাও সেই সমালোচনা যখন চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি সামগ্রিক অনাস্থা তৈরি করে, তখন তার প্রভাব পড়ে সাধারণ রোগীর ওপরও। এটি রীতিমত উদ্বেগজনক।

প্রশ্ন উঠছে, এসব ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও সুপরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য?

আমরা মনে করি, সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, ভুল হলে তার বিচারও হতে হবে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করা এবং জনগণকে চিকিৎসকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। 

এই অপতৎপরতার পেছনে দুটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে— 

১. বাংলাদেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে অকার্যকর ও অনির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করা।
২. বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে রোগীদের নিরুৎসাহিত করে দেশের বাইরে, বিশেষত কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে রোগী প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা। 

সুতরাং দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে দোষারূপ না করে এর বিকাশের পথ অবারিত রাখা জরুরি। অন্যথায় এখানে অন্ধকার নেমে আসলে ফায়দা নেবে অন্যকোনো পক্ষ।   

কাজেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সহিংসতা নয়, বরং ভুলের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি চাই।
চিকিৎসাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার নয়, বরং গঠনমূলক সংস্কার চাই।
চিকিৎসক ও জনগণের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা চাই।

মনে রাখতে হবে, চিকিৎসক ও জনগণ পরস্পরের প্রতিপক্ষ নন, বরং তাঁরা একই স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশের চিকিৎসক, চিকিৎসাব্যবস্থা ও রোগীর প্রতি আস্থা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

চিকিৎসকের ভুল থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে—এ নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, অপমান এবং পুরো চিকিৎসাব্যবস্থাকে ঢালাওভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতাও বন্ধ হওয়া জরুরি। 

আস্থা ভেঙে দেওয়ার বদলে প্রয়োজন সংস্কার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক সহযোগিতা। বাংলাদেশের চিকিৎসক, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং সর্বোপরি রোগীর স্বার্থ রক্ষায় এখনই দায়িত্বশীল ও সচেতন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান 
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, আইসিএমএইচ
সাবেক অধ্যক্ষ, মুগদা মেডিকেল কলেজ
সভাপতি, বিসিএস হেলথ ফোরাম
লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি, এনডিএফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
ট্রেজারার, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক্স অ্যাসোসিয়েশন

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক নিগ্রহ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত