শরীয়তপুরে ডা. নাসিরের ওপরে হামলার প্রতিবাদে এনডিএফ’র মানববন্ধন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডা. নাসির উদ্দিনের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। আজ রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন। এনডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ, সহ-সভাপতি ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জয়েন সেক্রেটারি ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, অফিস সম্পাদক ডাক্তার এ কে এম জিয়াউল হক, বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।
অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, এই ধরনের হামলা কোনো সুস্থ মানুষ মেনে নিতে পারে না। চিকিৎসকদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন চান এনডিএফ সেক্রেটারি। বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক নিপীড়িত বা অপদস্ত হলে আমরা শুধু প্রতিবাদ জানাব না, কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করব। চিকিৎসকদের আর অসহায় অবস্থায় ছাড়ব না। আমরা শুধু ডা. নাসিরের পাশে নয়, সকল চিকিৎসাকর্মীর পাশে আছি।’
এনডিএফ দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোকে উন্নত, যুগোপযোগী ও পরিবর্তন করতে চায় জানিয়ে ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রস্তাবনা ও তথ্য আছে, যা আগামী ২১ তারিখের বাজেটপূর্ব আলোচনায় উপস্থাপন করা হবে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করুন, দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করুন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
পাশাপাশি চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিতেরও দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এনডিএফ সহ-সভাপতি ডা. মুক্তার আলি লস্কর ডা. নাসিরুদ্দিনের ওপরে নির্মমভাবে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান বলেন, হামে দেশ যেখানে সংকটকালীন মুহূর্ত পার করছে, সেখানে আমার রাজপথে থাকার কথা ছিল না।
চিকিৎসকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ কোনো ব্যক্তির ওপরে নয়, এটি স্বাস্থ্যখাতের ওপর আক্রমণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, এই হামলা আপনার নিজের ওপরে মনে করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনুন এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।’
এই ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই উল্লেখ করে ডা. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা চিকিৎসা দিবো, কিন্তু আমাদের ওপরে আক্রমন হলে আমরা কীভাবে চিকিৎসা দিবো? এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন করতে হবে।
মানববন্ধনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সহ-সভাপতি আব্দুর ওহাব মিনার বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন পরবর্তী এই ঘটনা দুঃখজনক।
ডা. নাসিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক সুরক্ষা আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত আপনারা গলায় স্টেথোস্কোপের পাশাপাশি একটা বাশের লাঠিও রাখবেন।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন চক্ষু বিশেষঙ্গ ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ, ডা. হাসান আল বান্না, ডা. সারোয়ার জাহান তুহিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন, যার রক্তচাপ ছিল ৬০/৪০ মাত্রার।
রোগীর গুরুতর অবস্থা আত্মীয়-স্বজনকে বিস্তারিত অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন চিকিৎসক। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিক শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।
এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। তারা দয়িত্বরত ডা. নাসিরকে বেধড়ক মারতে থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে দরজার কাচ ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তারা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন, সেটা ভেঙে তাকে মারতে মারতে বের করে আনে। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
পুলিশ আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থায় ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
এমআই/এমইউ