হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মৃত্যুর জের
শরীয়তপুরে রোগীর স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. নাসির উদ্দিন। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নৃশংস এই হামলা হয়। হামলায় হাসপাতালের অফিস সহায়ক, পাঁচ আনসার সদস্যসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এ সময় ইমার্জেন্সি রুমে দায়িত্বে ছিলেন ডা. নাসির। সেখানে তিনি অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
এ সময় হার্ট অ্যাটাকের এক রোগী দুই দিন পুরোনো বুক ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, যার রক্তচাপ ছিল ৬০/৪০ মাত্রার।
রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে রোগীকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিক শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।
এর পর স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। তারা দয়িত্বরত ডা. নাসিরকে বেধড়ক মারতে থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে দরজার কাচ ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তারা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন, সেটা ভেঙে তাকে মারতে মারতে বের করে আনে। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
এতে বাধা দিলে তিনজন আনসার সদস্যও তাদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। পুলিশ আসতে আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থায় ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডা. নাসিরের মাথার সিটি স্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে তার জন্য অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসিডেন্সিতে নিউরোসার্জারি বিষয়ে অধ্যয়নরত ডা. মো. নাসির উদ্দিন ফেইজ এ-র ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি ৪৮তম বিসিএসে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। কয়েক দিন আগে সংযুক্তিতে সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি।
জেএইচ/এমইউ
-
১৬ মে, ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মৃত্যুর জের
শরীয়তপুরে রোগীর স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসক
-
২১ এপ্রিল, ২০২৬
দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি
ক্যান্সার হাসপাতালের উপ পরিচালককে কুপিয়ে জখম: ড্যাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ
-
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬