অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপিতে ঢামেক শিক্ষার্থীরা
অধ্যাপক শহীদ আকনের বদলি রোগীসেবা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থপরিপন্থী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে ওএসডি হিসেবে বদলি করার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক, অন্যায় ও অপমানজনক বলে দাবি করেছেন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। এ বদলিকে ঢামেক হাসপাতালের রোগীসেবা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী উল্লেখ করে তাঁকে পুনর্বহালেরও দাবি জানান তারা।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে এই দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারির প্রখ্যাত অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে পুনরায় অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) হিসেবে বদলি করার সিদ্ধান্ত আমাদের নিকট অত্যন্ত অযৌক্তিক, অন্যায় এবং অপমানজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করেন। তাঁর একক উদ্যোগে হলের ক্যান্টিন পুনর্বাসন, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, ফ্রিজ সরবরাহ, ফগিং মেশিনের ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ডা. শহীদুল ইসলাম আকন বাংলাদেশের স্পাইন সার্জারির একজন প্রখ্যাত ও অত্যন্ত দক্ষ চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জটিল ও চ্যালেঞ্জিং কেসসমূহ তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের সাথে পরিচালনা করে আসছেন। রোগীদের কল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং পেশাগত দক্ষতা সর্বজনবিদিত। তাঁর বদলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীসেবা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ডা. শহীদুল ইসলাম আকনের অবদান তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পূর্ববর্তী সময়ে, জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে গুরুতরভাবে আহত হন। সেই সংকটময় মুহূর্তে প্রশাসনের হমকি ও চাপ উপেক্ষা করে ডা. শহীদুল ইসলাম আকন মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিরলসভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছিলেন। তাঁর এই সাহসী ও মানবিক ভূমিকার জন্য তাঁকে ওএসডি করা হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাতিল করা অতএব, আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই অন্যায়, অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ডা. শহীদুল ইসলাম আকনক স্যারকে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনর্বহালের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে ওএসডি ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বদলির প্রতিবাদে এর আগে বেলা ১১টার দিকে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে শহীদ ডা. মিলন চত্বরে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে ডা. আকনের পুনর্বহালের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
ঢামেক কে-৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান খান ফাহিম বলেন, ‘ডা. শহীদুল ইসলাম আকন স্যার ছিলেন শিক্ষার্থীদের একজন সত্যিকারের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় সবার আগে এগিয়ে আসতেন তিনি এবং সমাধানে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। মেডিকেল জীবনের মতো চ্যালেঞ্জিং ও চাপপূর্ণ পরিবেশে এমন শিক্ষক পাওয়া সত্যিই বিরল।’
কে-৭৯ ব্যাচের আসিফ মাহমুদ জীবন বলেন, ‘যে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে কারও কাছে যাওয়ার প্রসঙ্গ ওঠলে প্রথমেই স্যারের নাম ওঠে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে শত্রুতা করে তাকে অন্যায়ভাবে বদলি করা হলে সেটা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা মানবো না। এখানে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ থাকতে পারেন, কিন্তু একটা বিষয় আমরা জানি, জুলাইতে স্যারকে যখন বদলি করা হয়, তখন তার ওপর স্বৈরাচারি সরকারের আক্রোশ ছিল, আমাদের প্রশ্ন—এখন স্যারের ওপর কার আক্রোশ যে, তাকে বদলি করা হলো?’
এ সময় কে-৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আলফাজ বলেন, ‘হলের মশা সমস্যার সমাধান, নতুন ক্যান্টিন চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যার সমাধানে ডা. শহীদুল ইসলাম আকন স্যার অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তার হয়রানিমূলক বদলি আদেশ মানি না।’
এমইউ/