বিএমইউতে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালালাইজড হাসপাতালে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (১১ মে) শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ১৪ মে পর্যন্ত। এতে চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টসহ ২১ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। চীনের সাতজন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল টিম এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
রোববার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, চীন সরকার রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালুর জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে। এই সেন্টার চালুর লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেন্টারটি চালু করতে পারলে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। আহতদের মধ্যে যারা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগছেন ও পুনবার্সনের প্রয়োজন, তারা এই সেন্টারের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তবে সুনির্দিৃষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে দেশের সাধারণ রোগীদের জন্যও এই সেন্টার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
চিকিৎসা ব্যয়ও যতটা সম্ভব রোগীদের সাধ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে উল্লেখ করে প্রো-ভিসি বলেন, সেন্টারটি চালু হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যে সকল রোগী বিদেশ যায়, তারা এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নিযুক্ত জনবলের দরকারি অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অর্জনের পরই সেন্টারটি চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন অধ্যাপক আজাদ।
এ সময় ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর বলেন, রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার দক্ষিণ এশিয়াতেই খুব একটি নেই। এই সেন্টারে রয়েছে ৬২টি রোবট। এর মধ্যে এআই বেইজড রোবটের সংখ্যা ২২টি। এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সকল ধরণের স্ট্রোকের রোগী, নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদী ব্যাথা, প্যারালাইসিসজনিত সমস্যা, ফ্রোজেন শোল্ডার, নার্ভের ইঞ্জুরির ফলে দুর্বলতা, অবশজনিত সমস্যা, শরীরের কোথাও শক্ত হয়ে যাওয়া, অ্যাক্সিডেন্ট ও ইঞ্জুরিজনিত দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা—এরকম অসংখ্য রোগ ও সমস্যায় ভোগা দেশের মানুষ এই সেন্টার থেকে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. আবু নাছের, উপ-পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. এ কে আল মিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এনএআর/
-
১৭ মে, ২০২৬