২৩ জানুয়ারী, ২০২৫ ০৩:৪৫ পিএম

‘প্রতিহিংসার শিকার’ চিকিৎসকদের রেসিডেন্সিতে ভর্তির বয়স শিথিল

‘প্রতিহিংসার শিকার’ চিকিৎসকদের রেসিডেন্সিতে ভর্তির বয়স শিথিল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া চিকিৎসকদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সে ভর্তির বয়সসীমা শিথিল করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। ৫২ বছরের বদলে ৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত রেসিডেন্সি এমডি-এমএস ফেজ-এ কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বিভিন্ন সময়ে অনুত্তীর্ণ বিএসএমএমইউর এসব মেডিকেল অফিসার ও গবেষণা সহকারী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেসিডেন্সি কোর্সে বয়সসীমা শিথিলের সুযোগ পাওয়া চিকিৎসকরা ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে চাকরিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে তাঁরা প্রতিহিংসার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন কৌশলে আওয়ামী সমর্থক প্রশাসন তাঁদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করতে দেয়নি। এ ছাড়া কোনো কোনো চিকিৎসককে ভর্তি হতেই দেওয়া হয়নি এসব কোর্সে।

অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পোস্ট গ্রাজুয়েশনের ফেজ-এ রেসিডেন্সি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমা ৫২ বছর। তবে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার চিকিৎসকদের জন্য এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ সময় পর্যন্ত রেসিডেন্সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এতে সই করেন। অফিস আদেশে বলা হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বৈষম্যের শিকার গবেষণা সহকারী ও চিকিৎসকদের বিষয়ে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রেসিডেন্সি কোর্সে ভর্তির বয়সসীমা ৫২ বছরের স্থানে ৫৭ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিয়োগকৃত বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ও গবেষণা সহকারীরা এই সুযোগ পাবেন।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ৭২তম সভা এবং ১২ ডিসেম্বর ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় বৈষম্যের শিকার চিকিৎসকদের বয়সসীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গত ৮ জানুয়ারি এক অফিস আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসকদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

উল্লেখ্য, রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ চিকিৎসকরা গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল (তৎকালীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব) কনভেনশন সেন্টারে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের অবরুদ্ধ করেন। ওই দিন বিভিন্ন সময়ে এমডি-এমএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ১৩ চিকিৎসক বঞ্চিত বিবেচনায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

ওই ১৩ চিকিৎসক হলেন অর্থোডন্টিক্স বিভাগের ডা. এ কে এম কবির আহমেদ ও ডা. সারজানা সুলতানা, নেফ্রোলজির ডা. শাহরিয়ার শামস লস্কর, ইউরোলজির ডা. মোহাম্মদ এরশাদ আহসান ও ডা. মাহবুবুল ইসলাম খন্দকার, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের ডা. মোহাম্মদ আবু নাসের ও ডা. সিলভিয়া চৌধুরী, ভাসকুলার সার্জারির ডা. এ কে আল মিরাজ, এন্ডোক্রাইনোলজির ডা. জিয়াউদ্দিন মাহমুদ দিনার, কনজার্ভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিক্সের ডা. মো. রিয়াদুল জান্নাত, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নিউরোলজির ডা. এ বি এম সিরাজুল হক এবং পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রির ডা. হাসিবা আক্তার চৌধুরী।

►অফিস আদেশ দেখতে ক্লিক করুন

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত