২১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫০ এএম

বিএমইউতে মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিএমইউতে মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
সেমিনারের অতিথিবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএমইউ) মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ: শল্যচিকিৎসার অগ্রগতি ও চিকিৎসাগত উদ্ভাবনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, মুখগহ্বরের ক্যান্সার চিকিৎসার নানা অগ্রগতি, রোগ প্রতিরোধ, মাল্টিডিসিপ্লিনারি এ্যাপ্রোচ বাস্তবায়নসহ নানাবিধি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদ নাদিম আব্বাসি।

বক্তব্যে এই ধরণের সেমিনার এ্যাডভান্স টেকনোলজি ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী মুখগহ্বরের ক্যান্সার চিকিৎসায় বিরাট অবদান রাখবে বলে উল্লেখ করেন বিএমইউ ভিসি। একই সঙ্গে ২০০৪ সালে পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় সফরের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার মানের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও ক্যান্সার চিকিৎসায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে উভয়পক্ষ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, মুখগহ্বরের ক্যান্সারকে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ও সামাজিক বোঝা উল্লেখ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি এই রোগে সর্বাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসও (এইচপিভি) মুখগহ্বরের ক্যান্সারের কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।    

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ। 

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন ‘মুখগহ্বরের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা ও অগ্রগতি' শীর্ষক উপস্থাপনা প্রদান করেন।

এতে তিনি আধুনিক রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি তুলে ধরেন।

ওরাল এ্যাড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তার ‘এপিডেমোলজি অ্যান্ড কনটেমপোরেরি পারসপেকটিভস অফ ওরাল ক্যান্সার ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তার জানান, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলে মুখগহ্বরের ক্যান্সার একটি প্রধান জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহারও বেশি। বাংলাদেশকে ওরাল ক্যান্সারের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে পান, চুন, সাদা পাতা, জর্দ্দা, গুল ও সিগারেট ব্যাপক ব্যবহার, অপুষ্টি এবং রোগ নির্ণয়ের দেরিকে মুখগহ্বরের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

প্রতিনিয়ত মুখগহ্বর পরীক্ষা, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তামাক বর্জন, সুস্থ জীবন যাপনের পদ্ধতি অবলম্বন করে দ্রুত শনাক্ত করণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ওরাল ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব বলে তিনি জানান।

ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত মুখগহ্বরের ক্যান্সারের শল্যচিকিৎসাগত ব্যবস্থাপনা: বর্তমান মানদণ্ড ও উদ্ভাবনী অগ্রগতি বিষয়ক শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

তিনি মাল্টিডিসিপ্লিনারি ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, ভারচুয়াল সার্জিক্যাল প্ল্যানিং, এআই সহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার, ওরাল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা চিকিৎসায় যথাযথ অনকোলজিক মার্জিনসহ সম্পূর্ণ টিউমার অপাসারণ, সর্বাধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসার দিক তুলে ধরেন। 

পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদ নাদিম আব্বাসি ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের এমডি পরীক্ষায় বহিঃপরীক্ষক হিসেবে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সফর করছেন।

তিনি গতবারের তুলনায় বিভাগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষাপদ্ধতি, অনলাইন শিক্ষা ও ই-লার্নিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমইউ মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ (মামুন)। সেমিনারে ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন চেয়ারম্যানবৃন্দ, ফ্যাকাল্টি, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা অংশগ্রহণ করেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত