ডেঙ্গুতে ঝরল আরও ৬ প্রাণ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৯ জন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬২ জনে। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৮৬ হাজার ৪৫৮ জন।
এর আগে শনিবারও (৩ অক্টোবর) ডেঙ্গুতে সারাদেশে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৮ জন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মশাবাহিত এই রোগটি দেশে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও ২০১৯ সালের পর থেকে এর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০১৯ সালে দেশে এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়।
এরপর ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং মারা যান ২৮১ জন। ২০২৩ সালে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হন এবং ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, যা দেশে এক বছরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড।
২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জনে নামলেও মৃত্যু ছিল ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা আবার সামান্য বেড়ে এক লাখ ২ হাজার ৮৬১ জনে দাঁড়ায়; মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
চলতি ২০২৬ সালেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশে ৮৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৬২ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঙ্গে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছে।
ফলে ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক মৌসুমি রোগ নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই এর বিস্তার ঘটছে। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর হার কমাতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এমইউ/
-
১৭ ঘন্টা আগে
-
০৬ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৪ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৪ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৩ অক্টোবর, ২০২৬
-
০২ অক্টোবর, ২০২৬
-
০২ অক্টোবর, ২০২৬
-
০১ অক্টোবর, ২০২৬
-
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬