‘অধ্যাপক ডা. এমএ হাদী ছিলেন মানবতাবাদী মানুষ’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রথিতযশা সার্জন অধ্যাপক ডা. এমএ হাদী দেশের চিকিৎসাখাতে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শিক্ষার প্রসারে বিরাট অবদান রেখেছেন। জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ অধ্যাপক হাদী ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের মানুষ। তিনি ছিলেন দলমত নির্বিশেষে মানবতাবাদী মানুষ। চিকিৎসক সমাজের অবিসংবাদিত অবিভাবক ও নেতা হিসেবে জাতি তাঁকে চিরকাল স্বরণে রাখবে।
অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এটির উদ্বোধন করন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএসএমএমইউ একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। মানুষ এখানে অনেক আশা ভরসা নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাই রোগীরা যাতে সবসময় সর্বোচ্চমানের চিকিৎসাসেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে অবশ্যই পালন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএসএমএমইউতে কর্মরত শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ যারা বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন তাদের ন্যায্য প্রাপ্য দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ডা. এমএ হাদীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. এএসএম নওরোজের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ডা. আবদুল বায়েছ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর জেষ্ঠ্যপুত্র হোসেন ইমাম আল হাদী প্রমুখ।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। আলোচনার শুরুতে বক্তারা জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা. এমএ হাদী বিএসএমএমইউর চতুর্থ ভাইস চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতিও ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
অধ্যাপক এমএ হাদী ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব সার্জনস থেকে ইউরোলজিতে ফেলোশিপ (এফআইসিএস), ১৯৯৫ সালে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব এডিনবরা থেকে এফআরসিপি এবং ২০০৫ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ থেকে এফআরসিপিএসসহ বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ অর্জন করেন। তাঁকে পাকিস্তান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস সাম্মানিক এফসিপিএস প্রদান করে।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খুলনা সদর হাসপাতাল এবং নারায়নগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে কনসালটেন্ট সার্জন হিসেবে কাজ করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও পরবর্তীতে ইউরোলজির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ (১৯৯৬-১৯৯৮), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (২০০১-২০০৬), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট (২০০৩-২০০৭) ও একই সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ ছাড়া অধ্যাপক হাদী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্ট্যান্ডিং রিকগনিশন কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (২০০৪-২০০৭) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে এডিনবরা রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস শোকবার্তা প্রকাশ করে।
এনএআর/
-
১৯ অক্টোবর, ২০২৪
-
১৫ অক্টোবর, ২০২৪