দুই দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ফিজিওথেরাপিস্টরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে সরকারি সকল প্রাইমারি লেভেল টু টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট অবিলম্বে নিয়োগ চায় সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পেশাজীবি -শিক্ষার্থী পরিষদ। এছাড়াও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি কলেজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও দাবি তুলে তারা।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সকাল ৯ টা থেকে শেষ দেখা দুপুর ৩ টা পর্যন্ত একপাশের সড়ক দখল করে আন্দোলন করে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবি-শিক্ষার্থী পরিষদ।
সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদ থেকে এসময় জানানো হয়, ফিজিওথেরাপিস্ট কম্প্রিহেন্সিভ স্বাস্থ্য সেবায় রোগ প্রতিরোধ, নিরাময়, উন্নতি এবং পুনর্বাসন এর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ভুমিকা রাখেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কাঠামোর অন্যতম অংশ হলো হেলথ টিম। সেখানে মেডিকেল প্রাকটিশনার, স্বাস্থ্য পেশাজীবি বা অন্যান্য পেশাজীবিরা কাজ করেন। এর মাঝে স্বাস্থ্য পেশাজীবিদের মধ্যে ফিজিওথেরাপিস্ট স্বাস্থ্য সেবার প্রতিটা ভাগে স্বতন্ত্রভাবে অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে।
তারা বলেন, বাংলাদেশে, ফিজিওথেরাপিস্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবি হওয়া স্বত্তেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা এবং সেবা প্রদানের সরকারি মডেল কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাংলাদেশের ফিজিওথেরাপিস্ট তাদের পেশাগত অনুশীলন সঠিক মানদন্ডে বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পেতে বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ কম্প্রিহেন্সিভ ইনক্লুসিভ চিকিৎসা হতে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়ে আসছে।
বক্তারা বলেন, অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম করে ফিজিওথেরাপিস্টরা ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রাণাধীন ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ কমপ্লেক্স সংলগ্ন মহাখালী মৌজার ৮ নং খতিয়ানের ১৩২৫ দাগে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি নির্মাণের জন্য ৫.২৮ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপির জমি নিয়ে বিভিন্ন জটিতা সৃষ্টি হলে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কলেজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু হতভাগা চাষা বাঙ্গালিরা সেই বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি হতে ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি তো দূরের কথা কলেজ এর গাঠনিক রুপই দেখার সুযোগ পাইনি। কাজেই এখন আমরা শিক্ষার্থীরা মনে করি যে, এটা কেবল আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষীণত্ব ছাড়া আর কিছুই না। যেটা বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং অধিকারের একটি অত্যাবশকীয় উপাদান চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন ক্ষীণত্ব একেবারে কাম্য নয়।
তাঁরা আরও বলেন, জুলাই ২০২৪ এ স্বৈরাচারী সরকার দেশে যে বর্বর গণহত্যার পরিচালনা করে, এতে শত শত শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বিছানায় নিরবে চোখ দিয়ে পানি ফেলছেন। তাদের বিশেষ সমস্যাগুলোর মধ্য স্পাইনাল কর্ড ইজুরি, হাত, পা হারানোসহ গুলিবিদ্ধ নানান জটিলতা নিয়ে তারা ভুগছেন। তারা সকলেই প্রায় মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা অ্যাকিউট স্টেজ পার করে ফেলেছেন। এখন তাদের দরকার ফিজিওথেরাপি এবং রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসা। কিন্তু কোথায় পাবে সেই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা? বাংলাদেশে কোন সরকারি হাসপাতেলে নেই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপি প্রাক্টিশনার।
এসময় স্বাস্থ্য বাবস্থাকে শক্তিশালী এবং সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করতে বর্ণিত দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচনা সভার তারিখ জানানোর জন্য অনুরোধ জানায় আন্দোলনকারীরা। এটি নাহলে জনমানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য শান্তি পুর্ন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে৷ বলেও জানায় তারা।
-
১৬ মে, ২০২৬
-
২২ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ইশতেহারে ৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা
স্বাস্থ্য বরাদ্দ তিনগুণ করবে জামায়াত, স্বাস্থ্যবীমা-হেলথ কার্ড চালুর অঙ্গীকার
-
১১ অগাস্ট, ২০২৫
-
০৫ জুলাই, ২০২৫
স্বাস্থ্যের সকল প্রকল্প মূল কার্যক্রমে নিয়ে আসার পরিকল্পনা
সেক্টর কর্মসূচি ছাড়াই স্বাস্থ্যের এক বছর, ২৫ হাজার কর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তায়