সেবাখাতের মধ্যে দুর্নীতিতে ষষ্ঠ ও ঘুষে অষ্টম স্বাস্থ্য: টিআইবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক বছরে (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর) সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হওয়ার দিক থেকে যথাক্রমে ষষ্ঠ ও অষ্টম অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্যখাত। গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক খানা জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’এর প্রতিবেদন প্রকাশ করে জরিপের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এটি টিআইবির ১১তম খানা জরিপ।
জরিপ অনুযায়ী, সেবা খাতগুলোর মধ্যে পাসপোর্ট দুর্নীতি ও ঘুষে প্রথম এবং বিআরটিএ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাসপোর্ট সেবায় সর্বোচ্চ ৮৪.৪ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতির এবং ৭৬.৬ শতাংশ ঘুষের শিকার হয়েছেন; অন্যদিকে বিআরটিএতে এই দুর্নীতির হার ৭৯.৩ শতাংশ। এ তালিকায় দুর্নীতি ও ঘুষে যথাক্রমে ষষ্ঠ ও অষ্টম অবস্থানে আছে স্বাস্থ্যখাত।
স্বাস্থ্যে ৬৪.৪ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতি ও ২৯.৭ শতাংশ গ্রাহক ঘুষের শিকার হয়েছেন। খাতভেদে সেবা গ্রহণে স্বাস্থ্যে ঘুষের শিকার হওয়ার হার ভৌগোলিক অবস্থানভেদে গ্রামাঞ্চলে ২৯.৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ২৯.৪ শতাংশ। দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার গ্রামাঞ্চলে ৬৪.৬ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৬৪.০ শতাংশ।
টিআইবি জানায়, এই সময়ের মধ্যে দেশে ঘুষ লেনদেন হয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে স্বাস্থ্যখাতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে ১৮১.৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যে সেবা গ্রহণে গড় ঘুষের পরিমাণ ২৫৮ টাকা। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে গ্রামাঞ্চলে ২৪৭ টাকা এবং শহরাঞ্চলে ২৮২ টাকা। এ ছাড়া টিকিট সংগ্রহের প্রাপ্তির মতো সেবায় ঘুষের বা নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেনের হার দ্বিগুণ থেকে প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সেবায় কম অঙ্কের কিন্তু উচ্চ-সংখ্যক ঘুষ লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ সময় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্বিকভাবে দেশের ৬৩.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত একটি খাতে ঘুষের শিকার হয়েছে। আর সার্বিকভাবে দেশের ৮১.৬ শতাংশ মানুষ সেবা গ্রহণে কমপক্ষে একটি খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট খাতের চিত্রটি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
তিনি বলেন, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
এমআর/