০৮ মে, ২০২৪ ০৯:৪০ পিএম

ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল স্যালাইন-বিষাক্ত শিশুখাদ্য, গ্রেপ্তার ৬

ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল স্যালাইন-বিষাক্ত শিশুখাদ্য, গ্রেপ্তার ৬
চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে শিশু খাদ্য ভেজাল কোমল পানীয় ড্রিংকো, ফ্রুটো, ম্যাংগো জুস তৈরি ও নকল টেস্টি স্যালাইন তৈরি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- শিশু খাদ্য তৈরি কারখানা মালিক মো. আনোয়ার হোসেন (৩৮), ডিলার শাহ নেওয়াজ খান (৩৩), বিক্রয়কর্মী মোরশেদুল ইসলাম (৫১), উৎপাদনকারী সবুজ মিয়া (২৩), উৎপাদনকারী মো. আরিফ (২৩) এবং নকল টেস্টি স্যালাইন তৈরি কারখানার মালিক হানিফ মিনা (৩০)। গ্রেপ্তাররকালে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান বিশুদ্ধ পানি, ভেজাল শিশু খাদ্য তৈরির মেশিন ও নকল স্যালাইন জব্দ করা হয়।

বুধবার (৮ মে) দুপুরে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মোহাম্মদবাগস্থ জনৈক সিরাজ ছৈয়ালের ভাড়া দেয়া কারখানায় ভেজাল পানীয় দ্রব্য বাজারজাত করার জন্য উৎপাদন করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার অভিযানে চালানো হয়। ডিসি তারেক আহমেদের নির্দেশে এবং এডিসি মো. জুনায়েদ আলমের তত্ত্বাবধায়নে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এডিসি মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হারুন অর রশীদ বলেন, সরকার কর্তৃক অনুমোদনবিহীন বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে ড্রিংকো ফ্লোট নাটা ডি কোকো সমৃদ্ধ লিচি আর্টিফিসিয়াল ফ্লেভার ডিংক লেভেলযুক্ত বোতলজাত কোমল পানীয় তৈরি এবং নামীদামি ব্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল পণ্য বাজারজাত করে শিশু-কিশোরসহ সাধারণ জনগণের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাড়ির মালিক সিরাজের সহায়তায় গ্রেপ্তাররা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, ভেজাল কোমল পানীয় দ্রব্য ড্রিংকো, ফ্রুটো বাজারজাত করার জন্য উৎপাদন করছিল। গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন এই কারখানার মালিক। তিনি ড্রিংকো, ফ্রুটো, ম্যাংগো জুস ইত্যাদি ২৫-৪০ শতাংশ কমিশনে লোভনীয় অফারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। আনোয়ার গত ২ বছর ধরে অনুমোদনবিহীন ভেজাল শিশু খাদ্য নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে স্যাকারিন, পানি, আর্টিফিশিয়াল ফ্লেবার, মানহীন ক্যামিকেল দিয়ে অসাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল কোমল পানীয় ড্রিংকো, ফ্রুট, ম্যাংগো জুস তৈরি করছিল। এছাড়াও গ্রেপ্তার হানিফ মিনা মান নিয়ন্ত্রনহীন অদক্ষ জনবল দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনো প্রকার অনুমোদন ও স্বীকৃত কেমিষ্টবিহীন চিনি, গ্লুকোজ, মানহীন ক্যামিকেল দিয়ে ভেজাল টেস্টি স্যালাইন তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, ভেজাল পন্য ফরিদপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে। এসব ভেজাল খাদ্য তৈরির কাচাঁমাল ও লোগো রাজধানীর মিডফোর্ড এলাকা থেকে সংগ্রহ করত তারা। গত কয়েকদিনে তীব্র দাবদাহে মানুষের মাঝে পানীয় পানের চাহিদা বাড়ায় এ ধরণের ভেজাল কোমল পানীয় তৈরি বেড়ে যায় তাদের। এই চক্রটির ডিলারদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন দেওয়ার পরেও তাদের অনেক টাকা লাভ হতো। আসলে তাদের তেমন কোনো উৎপাদন খরচ নেই। কোনো ভ্যাট দিতে হয় না। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ভেজাল খাদ্য ও নকল স্যালাইন সেবনের পর শরীরের বিভিন্ন ক্ষতির কথা উল্লেখ করে হারুন অর রশীদ বলেন, ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। তখন ইলেকট্রোলাইটেক ঘাটতি পূরণের জন্য স্যালাইন খাওয়া হয়। নকল স্যালাইন খেলে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে কিডনি, হার্ট, লিভার ইত্যাদিতে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্ক ডেমেজ, কিডনি ও হার্ট ড্যামেজের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

ডিবি প্রধান আরও জানান, দেশজুড়ে চলা তাপপ্রবাহের কারণে একটু সুস্থ ও স্বস্তিতে থাকতে অনেকেই পানির পাশাপাশি স্যালাইন পান করে থাকেন। একারণে চাহিদা বেড়েছে স্যালাইনের। সেই সুযোগ নিয়েছে একশ্রেণির প্রতারক। আসল স্যালাইনের মতো করে তারা নকল স্যালাইনগুলো বানাতো। এরপর মানবিক কাজের নামে তারা বিভিন্ন জায়গায় এগুলো বিলি করে প্রচারণা চালাতো।

হারুন অর রশীদ জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চক্রটি নকল স্যালাইন তৈরি করে আসছিল। শুধুমাত্র চিনি ও লবণ দিয়ে এসব ভেজাল স্যালাইন মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ সময় ভেজাল এসব পণ্য তৈরি রুখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ডিবি প্রধান।

এক প্রশ্নের জব্বাবে ডিবি প্রধান বলেন, যারা নকল স্যালাইন, শিশু খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে কোন ধরনের তথ্য থাকলে তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ রইলো। আমাদের তথ্য দিলে এটাও আমাদের জন্য সহায়ক হবে। তাহলে আমরা এরকম প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করতে পারব।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডিবি
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক